প্রিন্ট এর তারিখ: ০৩ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ: ০৩ জুন ২০২৬||
প্রিন্ট এর সময়:
০৬:০০ পিএম ||
মাদক প্রতিরোধে কক্সবাজারে ডগ স্কোয়াড নামানোর পরিকল্পনা পুলিশের
রোমানা আক্তার ||
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট কক্সবাজারে মাদক পাচার ও পরিবহন প্রতিরোধে এবার প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড (কে-৯ ইউনিট) মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ পুলিশ। এ লক্ষ্যে কক্সবাজার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নতুন করে কুকুর সংগ্রহ না করে বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এবং অন্যান্য ইউনিটে মাদক শনাক্তকরণে ব্যবহৃত প্রশিক্ষিত ও পরীক্ষিত কুকুরগুলোর মধ্য থেকে বাছাই করে কক্সবাজারের জন্য একটি বিশেষ কে-৯ স্কোয়াড গঠন করা হবে।প্রাথমিকভাবে কক্সবাজার বিমানবন্দর, আইকনিক রেলস্টেশন, মেরিন ড্রাইভসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ ও বহির্গমন পয়েন্টে এসব প্রশিক্ষিত কুকুরের মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়া সন্দেহভাজন যানবাহনগুলোও বিশেষ তল্লাশির আওতায় আনা হবে।পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, “মাদক প্রতিরোধে কক্সবাজারে প্রশিক্ষিত কুকুর কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। মাদক যেন দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজারের বিভিন্ন সড়কের পাশে যানবাহন তল্লাশির জন্য বিশেষ ‘বাস-বে’ বা নির্ধারিত পার্কিং এলাকা নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সেখানে যানজট সৃষ্টি না করে বাস ও অন্যান্য যানবাহন থামিয়ে ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হবে।২০২৫ সালের জুলাই মাসে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসির নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে কক্সবাজার ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক মাদক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত টাস্কফোর্সের বৈঠকে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান, তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কক্সবাজারকেন্দ্রিক মাদক কারবারিদের একটি নতুন তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে প্রায় ৩০০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শীর্ষ মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার এবং তাদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ) মো. নাজিমুল হক বলেন, “প্রশিক্ষিত কুকুরের মাধ্যমে সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।”কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান বলেন, “কক্সবাজারে মাদক কারবারিদের নতুন করে চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না।”সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার পাশাপাশি হেরোইন, আইস (ক্রিস্টাল মেথ) এবং অন্যান্য মাদকও কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে। এসব মাদক পাচারের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকার সংঘবদ্ধ চক্র, কিছু রোহিঙ্গা সদস্য এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবার মতো মাদক আধুনিক স্ক্যানিং প্রযুক্তির মাধ্যমে সবসময় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। কিন্তু প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড অত্যন্ত সূক্ষ্ম ঘ্রাণশক্তির মাধ্যমে লুকিয়ে রাখা মাদক দ্রুত শনাক্ত করতে সক্ষম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাদক উদ্ধার ও অপরাধ দমনে কে-৯ ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং র্যাব কক্সবাজার অঞ্চলে প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। এবার জেলা পুলিশও একই ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।এদিকে মাদক পাচার ও অবৈধ পণ্য পরিবহন প্রতিরোধে কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনে ইতোমধ্যে স্ক্যানার মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্ক্যানিং প্রযুক্তির পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা গেলে কক্সবাজারে মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ফল পাওয়া যাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : রকসী সিকদার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ