প্রিন্ট এর তারিখ: ০৭ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ: ০৭ জুন ২০২৬||
প্রিন্ট এর সময়:
০৮:০২ এএম ||
চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় উখিয়ায় যুবদল নেতা বহিষ্কারের অভিযোগ
আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ ||
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী এলাকায় কথিত চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় যুবদল নেতা ওসমান সরওয়ার সিকদারকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি দাবি করেছেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় প্রভাবশালী একটি মহলের চাপে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই বহিষ্কার করা হয়েছে।জানা যায়, গত ২৫ মে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের টিভি টাওয়ার সংলগ্ন একটি রাবার বাগানে গরুর বাজারের কার্যক্রম শুরু হয়। বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, উখিয়া থেকে আসা কয়েকজন যুবদল, ছাত্রদল ও কৃষকদল নেতাকর্মী বাজার পরিচালনায় বাধা দেন এবং পূর্বের বকেয়া চাঁদার টাকা পরিশোধের দাবি করেন।অভিযোগ অনুযায়ী, বাজারের অন্যতম অংশীদার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল পালংখালী ইউনিয়ন শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওসমান সরওয়ার সিকদার এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে কথিত চাঁদাবাজদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেন। পরে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।এর কিছুদিন পর কক্সবাজার জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে ওসমান সরওয়ার সিকদারকে সংগঠনের সব পদ থেকে বহিষ্কারের একটি আদেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।বহিষ্কারের বিষয়ে ওসমান সরওয়ার সিকদার বলেন, “বাজারে চাঁদাবাজি করতে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আমি প্রতিবাদ করেছি। এ কারণেই আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমাকে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি, এমনকি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়নি। এটি দলীয় গঠনতন্ত্র ও নিয়মের পরিপন্থী।”তিনি আরও বলেন, “যারা চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং আমাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। আমি দলের কেন্দ্রীয় ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করছি।”এ বিষয়ে ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জানান, উখিয়া থেকে কিছু লোক বাজার এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেছিল। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বহিরাগতদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।তিনি বলেন, “আমাদের কাছেও নির্দেশনা ছিল যে, অন্য জেলা থেকে এসে কেউ বাজার এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।”অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।উল্লেখ্য, চাঁদাবাজির অভিযোগ ও বহিষ্কার সংক্রান্ত দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা যুবদলের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : রকসী সিকদার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ