প্রিন্ট এর তারিখ: ১৫ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ: ১৫ জুলাই ২০২৬||
প্রিন্ট এর সময়:
০৭:৪১ পিএম ||
মহেশখালীতে মোবাইলভিত্তিক অনলাইন জুয়ার বিস্তার
শহিদুল ইসলাম লিটন ||
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় মোবাইলভিত্তিক অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে অনলাইন জুয়ার প্রতি যুবসমাজের একটি অংশের ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় যুবসমাজকে রক্ষা করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির দাবি জানিয়েছেন তারা।উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোবাইল অ্যাপ ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজেই জুয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকায় ছাত্র, যুবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয়দের ভাষ্য, অনেকে অনলাইন জুয়ায় অর্থ হারিয়ে ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়েছেন। কারও পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে, আবার কেউ আর্থিক সংকটে পড়ে নানা সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, অনলাইন জুয়ার সহজলভ্যতা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার যুবসমাজের জন্য বড় ধরনের সামাজিক ঝুঁকি তৈরি করছে। তাদের মতে, অনেক তরুণ ধীরে ধীরে জুয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছেন, যা তাদের শিক্ষা, কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।তাদের দাবি, প্রশাসন নিয়মিত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং আইন অনুযায়ী অভিযান জোরদার করলে অনলাইন জুয়ার বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামে সচেতনতামূলক প্রচারণা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।সচেতন মহলের মতে, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে, যাতে তরুণ প্রজন্ম এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকে।স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করে বলেন, মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত নজরদারি, আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তারা।সচেতন নাগরিকদের মতে, অনলাইন জুয়া কেবল একজন ব্যক্তির জন্য নয়, একটি পরিবার, সমাজ এবং দেশের অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর। তাই তারা সবাইকে অনলাইন জুয়া বর্জনের আহ্বান জানিয়ে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে কোনো অবৈধ জুয়া বা প্রতারণামূলক কার্যক্রমের তথ্য থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর এবং প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত না করে আইনের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান।সচেতন মহলের স্লোগান: অনলাইন জুয়ামুক্ত সমাজ গড়ি, মাদকমুক্ত ও নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাই এগিয়ে আসি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : রকসী সিকদার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ