প্রিন্ট এর তারিখ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ: ১৮ আগস্ট ২০২৬||
প্রিন্ট এর সময়:
০৪:৫২ এএম ||
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্ত্রী-সন্তানকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার
আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ ||
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্ত্রী ও সন্তানকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারনামীয় প্রধান ও একমাত্র আসামি এহেছানুল হক (৩৮)-কে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ঢাকায় যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।র্যাব জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাসী, ঘাতক, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে সংস্থাটি। এরই ধারাবাহিকতায় উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি এহেছানুল হককে দীর্ঘদিনের আত্মগোপন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুলাই ২০২৬ কক্সবাজারের উখিয়া থানাধীন কুতুপালং ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-৬ ব্লকে পারিবারিক কলহের জেরে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।অভিযোগ অনুযায়ী, ওইদিন এহেছানুল হক ধারালো দা দিয়ে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। হামলায় ঘটনাস্থলেই তার স্ত্রী শহীদা নুর ওরফে সুফিয়া (৩০) এবং পাঁচ বছর বয়সী শিশু সন্তান মোহাম্মদ শামীম নিহত হয়।এ ঘটনায় এহেছানুল হকের অপর ছেলে মোহাম্মদ আফছার ওরফে বাপ্পী (১৪) গুরুতর আহত হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।ঘটনার পর থেকেই এহেছানুল হক আত্মগোপনে চলে যান। হত্যাকাণ্ডের পর তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট তৎপর হয়ে ওঠে। মামলার একমাত্র এজাহারনামীয় আসামি হওয়ায় তাকে আইনের আওতায় আনতে র্যাব-১৫, কক্সবাজার গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার করে।দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা তৎপরতার একপর্যায়ে তার অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় র্যাব।এরই ধারাবাহিকতায় ১৬ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৫ মিনিটে র্যাব-১৫ (ব্যাটালিয়ন সদর), কক্সবাজার ও র্যাব-২ (সিপিসি-৩)-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ঢাকার তেজগাঁও থানাধীন লাইফ ইন্স্যুরেন্স অফিসের সামনে অভিযান পরিচালনা করে।অভিযানকালে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মামলার একমাত্র এজাহারনামীয় পলাতক আসামি এহেছানুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার এহেছানুল হক কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-৬ ব্লকের বাসিন্দা। তার পিতার নাম নুর আহম্মদ।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পরপরই আসামি আত্মগোপনে চলে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারে র্যাবের গোয়েন্দা সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি চালিয়ে আসছিলেন। অবশেষে ঢাকায় অবস্থান শনাক্ত করে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার এহেছানুল হকের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।র্যাব আরও জানিয়েছে, অপরাধী যতই আত্মগোপনে থাকুক কিংবা দেশের যে প্রান্তেই পালিয়ে থাকুক, তাকে আইনের আওতায় আনতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধ দমন, সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযানকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে র্যাব।
সম্পাদক ও প্রকাশক : রকসী সিকদার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ