প্রিন্ট এর তারিখ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ: ১৮ আগস্ট ২০২৬||
প্রিন্ট এর সময়:
০৪:৪৮ এএম ||
কক্সবাজারে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর বার্তা
আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ ||
মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফ, পেকুয়া ও চকরিয়ায় পৃথক মাদকবিরোধী র্যালি, সমাবেশ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশনায় সোমবার (১৭ আগস্ট) এসব কর্মসূচিতে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ অংশ নেন।উখিয়ার পালংখালীতে উখিয়া থানা পুলিশের উদ্যোগে ‘মাদককে না বলুন’ স্লোগানকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পালংখালী খাদিজাতুল কোবরা বালিকা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে র্যালিটি বের হয়ে এলাকার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মাদ্রাসায় এসে শেষ হয়। পরে মাদ্রাসার মিলনায়তনে মাদকের ভয়াবহতা ও বিস্তার রোধে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার মাদক ব্যবসায়ী ও এর সঙ্গে জড়িতদের কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, মাদকের কারণে দেশের যুবসমাজের একটি বড় অংশ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। এর প্রভাব পরিবার ও সমাজের ওপরও পড়ছে।মাদক কারবারিদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে ওসি বলেন, “আমি স্পষ্ট করে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছি-হয় মাদক ছাড়ুন, নয়তো উখিয়া ছাড়ুন। উখিয়ার মাটিতে কোনো মাদক কারবারির স্থান হবে না।”তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মাদক পাচার ও কারবার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদক কারবারিদের বিষয়ে পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তিনি এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রেজা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, একটি পরিবার এবং শেষ পর্যন্ত গোটা সমাজকে বিপর্যস্ত করে। পালংখালীকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।এদিকে টেকনাফে মাদকবিরোধী র্যালিতে বক্তব্য দিয়ে মাদক গডফাদারদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানের বার্তা দিয়েছেন টেকনাফ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। তিনি মাদককে সমাজের জন্য ‘মরণ নেশা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, মাদক ক্যান্সারের মতো সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে। মাদকসেবী, কারবারি ও গডফাদারদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে।ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী র্যালি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে। জনগণের সহযোগিতা পেলে টেকনাফকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।পেকুয়ার শিলখালী ইউনিয়নের জারুলবনিয়া স্টেশনেও মাদকবিরোধী র্যালি ও সচেতনতামূলক সমাবেশ করেছে পেকুয়া থানা পুলিশ। থানার ওসি মো. মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, মসজিদের ইমাম, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক একজন ব্যক্তির জীবন ধ্বংসের পাশাপাশি একটি পরিবারকে বিপর্যস্ত করে এবং সমাজে অপরাধপ্রবণতা বাড়ায়। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও স্থানীয় জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার করা জরুরি। মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।অন্যদিকে চকরিয়ার ডুলাহাজারা বাজারেও মাদকবিরোধী র্যালি ও সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। চকরিয়া থানার ওসি আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, মসজিদের ইমাম, ধর্মীয় পুরোহিত, বৌদ্ধ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।র্যালিটি ডুলাহাজারা বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা মাদকাসক্তির ভয়াবহতা তুলে ধরে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাদকবিরোধী অভিযান ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।চার উপজেলার এসব কর্মসূচিতে বক্তারা অভিন্নভাবে বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। মাদক কারবারি, পাচারকারী, গডফাদার ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে মাদকের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান যেমন চলবে, তেমনি জনসচেতনতা তৈরির কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী ও মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোকে মাদকমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : রকসী সিকদার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ