প্রিন্ট এর তারিখ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ: ২৬ আগস্ট ২০২৬||
প্রিন্ট এর সময়:
০৫:৪৪ এএম ||
রক্তাক্ত ছিনতাই ও হত্যাচেষ্টা মামলার রহস্য ভেদ করে প্রধান আসামিকে ধরলেন এসআই রফিক
আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ ||
কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ছিনতাই ও হত্যাচেষ্টা মামলার রহস্য উদঘাটন করে প্রধান আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। ঘটনার পরপরই মামলাটির তদন্তে নেমে আসামিদের শনাক্ত, অবস্থান নির্ণয় এবং তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রফিক।পুলিশের তৎপরতায় আলোচিত এ মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিরা দ্রুত আইনের আওতায় আসায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অপরাধ দমনে এসআই রফিকের পেশাদারিত্ব, দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ে ধারাবাহিক অভিযান ইতোমধ্যে পুলিশের সংশ্লিষ্ট মহল ও স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট কক্সবাজার সদর মডেল থানাধীন পর্যটন এলাকা কলাতলীর সামস প্লাজা আবাসিক হোটেলের পেছনের গলিতে চাঞ্চল্যকর ছিনতাই ও হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে। এ সময় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় ওসমান (২২) ও ইয়াছিন (২১) গুরুতর আহত হন। পরে তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পর্যটননির্ভর ও ব্যস্ত কলাতলী এলাকায় এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দেয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবিও ওঠে।পরে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলে তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই মো. রফিক। মামলার এজাহার পাওয়ার পরপরই তিনি ঘটনাটির বিভিন্ন দিক নিয়ে তদন্ত শুরু করেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনার সূত্রগুলো বিশ্লেষণ করে হামলা ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় এবং অবস্থান সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন তিনি।পুলিশ সূত্র জানায়, শুরুতে ঘটনাটির সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য না থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন সূত্র ও তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে এগিয়ে যান। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় একটি বিশেষ টিম গঠন করে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।ধারাবাহিক অনুসন্ধান ও অভিযানের একপর্যায়ে মামলার প্রধান আসামিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়। পুলিশের এই দ্রুত তৎপরতায় আলোচিত মামলাটির তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছে। বিশেষ করে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রফিকের মাঠপর্যায়ের তৎপরতা, তথ্য সংগ্রহ এবং অভিযান পরিচালনার কারণে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর থানায় দায়িত্ব পালনের পর থেকে এসআই মো. রফিক মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অপরাধীদের শনাক্তে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেছেন অনেকে।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কোনো চাঞ্চল্যকর অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বাড়ে এবং অপরাধীরাও অপরাধ করতে নিরুৎসাহিত হয়। সাম্প্রতিক এ ঘটনায় পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।এদিকে মামলার প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি থাকলে তাকেও দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং আহতদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদেরও শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।চাঞ্চল্যকর ছিনতাই ও হত্যাচেষ্টার মতো ঘটনায় দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের অপরাধ দমন কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আর এ সাফল্যের পেছনে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. রফিকের দায়িত্বশীল ও পেশাদার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : রকসী সিকদার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ