প্রিন্ট এর তারিখ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ: ২৬ আগস্ট ২০২৬||
প্রিন্ট এর সময়:
১০:৪৭ এএম ||
পেকুয়ায় সুশীলনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সমাপ্তি, উঠে এলো অর্জন ও অভিজ্ঞতা
আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ ||
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য বাস্তবায়িত “Humanitarian Assistance to the Flood Affected People of Chakaria & Pekua Upayilas under Coxs Bayar District ‘’প্রকল্পের সমাপনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশ-এর সহায়তায় এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশীলনের বাস্তবায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পের আওতায় পেকুয়ার রাজাখালী ও টইটং ইউনিয়নের ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে মোট ৪০ লাখ টাকা নগদ সহায়তা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও হাইজিন সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। ১৪ জুলাই ২০২৬ থেকে ২৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজন পূরণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো এবং নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়তা করা। প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি পরিবারকে ৮,০০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি উপকারভোগীদের মধ্যে সাবান, স্যালাইন, ব্লিচিং পাউডার, ডিটারজেন্ট, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, পানির জার/গ্যালন, ৫ লিটার পানির বোতল, মগ, বালতি ও ন্যাপকিনসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও হাইজিন সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সমাপনী সভায় প্রকল্পের কার্যক্রম, অর্জন, বাস্তবায়ন কৌশল, মাঠ পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ, অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্পের টিম লিডার আব্দুল আলিম। সভার উদ্বোধন করেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব রফিকুল ইসলাম।প্রকল্পের কার্যক্রম ও অর্জনসমূহ তুলে ধরেন প্রকল্পের ফোকাল পার্সন জনাব মোঃ শহিদুল ইসলাম। তিনি প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত কার্যক্রম, উপকারভোগী নির্বাচন, নগদ সহায়তা প্রদান এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।প্রকল্প বাস্তবায়নের কৌশল ও পদ্ধতি, অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি Kobo Tools-এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও বাস্তবায়নের ফলাফল উপস্থাপন করেন MEAL and HACE Officer জনাব মামুনুর রশিদ। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে অর্জিত শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে লার্নিং শেয়ারিং করেন।প্রকল্পের কার্যক্রম মনিটরিং, মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং ফিডব্যাক কার্যক্রম সমন্বয় ও বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করেন গঅঅচ ঋড়পধষ জনাবা আনোয়ারা খাতুন। প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয় করেন উপজেলা সমন্বয়কারী জনাব মোঃ এনামূল হক।সভায় পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাউছার আহমেদ, উপ-সহকারী প্রকৌশলী সামিউল ইসলাম, সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সালাউদ্দিন সোহেল, রাজাখালী ও টইটং ইউনিয়নের সচিব, স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।সভায় পেকুয়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এসএম আমিনুল্লাহ বলেন, নগদ অর্থ সহায়তা ও হাইজিন কিট পেয়ে এলাকার মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছেন। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি সুশীলন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব রফিকুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে সুশীলনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুশীলন উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছে। প্রকল্পের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা এবং মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়মিতভাবে প্রশাসনের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি এনজিওর প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার মানসিকতা থাকা প্রয়োজন। দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে থেকে সুশীলন যে মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে, তা প্রশংসনীয়। তিনি সুশীলনের এই কার্যক্রমের জন্য সংস্থাটিকে এবং সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। সভায় বক্তারা বলেন, দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজন পূরণে নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও হাইজিন সামগ্রী তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সরকারি দপ্তর এবং সুশীলনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। সমাপনী সভায় প্রকল্পের অর্জন, চ্যালেঞ্জ, মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও লার্নিং পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও কার্যকর, সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলকভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : রকসী সিকদার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ