প্রিন্ট এর তারিখ: ১১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ: ১১ অক্টোবর ২০২৬||
প্রিন্ট এর সময়:
০৮:০৫ পিএম ||
নিষিদ্ধ সংগঠন জেলা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হলেন শীর্ষ মাদক কারবারি মোরশেদ!
আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ ||
কক্সবাজারের টেকনাফে ইয়াবা কারবারের মাধ্যমে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ মোরশেদ প্রকাশ মোরশেদ খানের বিরুদ্ধে। একসময় আর্থিক অভাব অনটনে দিন কাটানো পরিবারের ভাগ্যের চাকা কয়েক বছরের ব্যবধানে ঘুরে যাওয়ার পেছনে ইয়াবা ব্যবসাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, মাদক কারবারের অর্থে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছেন বিলাসবহুল দালানবাড়ি। এবার সেই মোরশেদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের উপ-মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক পদে থাকার বিষয়টি নিয়েও এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।মোহাম্মদ মোরশেদ প্রকাশ মোরশেদ খান টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কুতুবদিয়া পাড়া এলাকার মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গেল কয়েক বছর আগেও তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো পরিস্থিতিতে দিন কাটতো তাঁদের। কিন্তু অল্প কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই পরিবারের আর্থিক অবস্থায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। বর্তমানে বিলাসবহুল বাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন মোরশেদ-এমনটাই দাবি স্থানীয়দের।স্থানীয়দের অভিযোগ, এই আকস্মিক সম্পদ অর্জনের পেছনে রয়েছে ইয়াবা কারবার। মাদক ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করে মোরশেদ নিজের জীবনযাত্রায় এনেছেন আমূল পরিবর্তন। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিলাসবহুল দালানবাড়ি তাঁর সম্পদ বৃদ্ধির দৃশ্যমান উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন এলাকাবাসীর অনেকে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও মোরশেদ রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। সম্প্রতি তিনি কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের উপ-মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক পদে ভাগিয়ে নিয়েছেন। নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন পদে তাঁর পরিচিতি এবং একই সঙ্গে মাদক কারবারের অভিযোগ এলাকায় নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক কারবারের মতো অপরাধের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তির সম্পদ যদি অল্প সময়ে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, তাহলে সেই সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।এসব অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ মোরশেদ খান প্রথমে বলেন, ছাত্রলীগকে তিনি মনেপ্রাণে ভালোবাসেন। দল তাঁকে জেলা কমিটিতে মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক পদে মূল্যায়ন করায় তিনি আনন্দিত এবং দলের প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে পরদিন মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি আগের বক্তব্য থেকে সরে এসে জানান, জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক পদে তাঁর নাম নেই; ওই পদে অন্য একজন রয়েছেন বলে তাঁকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশ্চিত করেছেন। এ কারণে তিনি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে সংশ্লিষ্ট সব পোস্ট মুছে দিয়েছেন বলেও জানান।নিজের আয়ের উৎস সম্পর্কে মোরশেদ খান দাবি করেন, তিনি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে এ দাবির সমর্থনে কোনো নথিপত্র প্রতিবেদকের কাছে উপস্থাপন করতে পারেননি। তাঁর বিরুদ্ধে ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, তাঁর বাপ-দাদার প্রচুর জায়গা-সম্পত্তি রয়েছে। এসব পারিবারিক সম্পদকে ভিত্তি করেই তিনি আয়-রোজগার করে জীবিকা নির্বাহ করছেন বলে জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক : রকসী সিকদার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ