প্রিন্ট এর তারিখ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬||
প্রিন্ট এর সময়:
০৬:৪২ পিএম ||
খুরুশকুলে মোবাইল চুরিতে বাধা, ছুরিকাঘাতে একই পরিবারের ৪ জনসহ আহত ৫
আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ ||
কক্সবাজারের খুরুশকুলে বসতঘর থেকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ একই পরিবারের চার সদস্য এবং তাঁদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসা এক প্রতিবেশী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হিন্দু পাড়ার হরিপুকুর পাড় বটগাছতলা সড়কে এ ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় নিলাপতি দে (৫৫) বাদী হয়ে একই এলাকার মৃত সুকুমার কান্তি দের ছেলে প্রিয়তোষ কান্তি দে (৩৫), প্রাণতোষ কান্তি দে (৩২), বিশু কান্তি দে (২৬) এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় এজাহার দিয়েছেন।এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে নিলাপতি দের নাতি প্রমিত দে তাঁর ব্যবহৃত শাওমি ১৩ লাইট মুঠোফোনটি ঘরে রেখে পূজা দিতে মন্দিরে যান। এ সময় ভুলবশত ঘরের প্রধান দরজা খোলা ছিল। সেই সুযোগে প্রিয়তোষ কান্তি দে ঘরে প্রবেশ করে মোবাইল ফোনটি নিয়ে বেরিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।বিষয়টি দেখে নিলাপতি দের ছেলে সুভাষ দে তাঁকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় প্রিয়তোষের হাতে মোবাইল ফোনটি দেখতে পেয়ে সেটি ফেরত চাইলে তিনি সুভাষকে মারধর করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে সুভাষের পিঠ ও বাম হাতের আঙুলে আঘাত করা হয়। পরে কাঠের লাঠি দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করার অভিযোগও রয়েছে।সুভাষের চিৎকার শুনে পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাণতোষ কান্তি দে ও বিশু কান্তি দে ধারালো দা দিয়ে নিলাপতি দের স্বামী বাবুল দেকে আঘাত করেন। এ সময় কাজল দে ও নিলাপতি দেকেও মারধর করা হয়। নিলাপতি দের পরনের কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন বাদী।এ ছাড়া আহতদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসা প্রতিবেশী জন কান্তি দেকেও ছুরিকাঘাত করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। হামলার সময় মামলা করলে পরিবারের সদস্যদের হত্যা ও লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। এজাহারে বলা হয়েছে, আহত বাবুল দে ও তাঁর দুই ছেলেকে হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।বাদীর দাবি, চুরি হওয়া মোবাইল ফোনটি তাঁদের হেফাজতে রয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে।এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী বলেন, “এ ঘটনায় এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক : রকসী সিকদার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ