প্রিন্ট এর তারিখ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬||
প্রিন্ট এর সময়:
০৯:৩০ এএম ||
চৌফলদণ্ডীর চার বৌদ্ধবিহার পরিদর্শনে ইউএনও তাহমিনা, ১০০ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ
রোমানা আক্তার ||
কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডীতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে চারটি বৌদ্ধবিহার পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দক্ষিণ চৌফলদণ্ডী দক্ষিণ রাখাইন পাড়ার দক্ষিণারাম বৌদ্ধবিহারসহ চারটি বৌদ্ধবিহার পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় দক্ষিণারাম বৌদ্ধবিহারে ১০০টি পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে স্যানিটাইজার, সাবান, ডিটারজেন্ট পাউডার ও স্যানিটারি প্যাড বিতরণ করা হয়।পরিদর্শনকালে ইউএনও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাঁদের ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের বিষয়ে খোঁজখবর নেন।এ সময় বক্তব্যে ইউএনও তাহমিনা আক্তার বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব স্বাধীনভাবে, নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্যাপনে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনকে ধন্যবাদ জানান তিনি। ইউএনও আরও বলেন, চৌফলদণ্ডীর রাখাইন পাড়াগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। উৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপন ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।চৌফলদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনজুর আলম বলেন, প্রবারণা পূর্ণিমা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছেন। সে অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে তিনি রাখাইন পাড়ার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় ও যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।তিনি বলেন, চৌফলদণ্ডীতে রাখাইন ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন রয়েছে। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ আপন ভাইবোনের মতো মিলেমিশে বসবাস করেন এবং একে অপরের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ান। ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাঁরা পারস্পরিক সহযোগিতা করে আসছেন। এই সম্প্রীতির কারণে প্রবারণা পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।চৌফলদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি উচাছিং রাখাইন বলেন, প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে প্রশাসনের সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। উৎসবে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, চৌফলদণ্ডীতে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো ভেদাভেদ নেই। রাখাইন ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মিলেমিশে বসবাস করছেন। প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্যাপনেও মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করেন। উৎসবের ঐতিহ্যবাহী জাহাজ বা ‘সোচ’ ভাসানো এবং সমুদ্রপাড়ে আগুন পূজার আয়োজনেও তাঁদের সহযোগিতা পাওয়া যায়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার এই ঐতিহ্য ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আল মুইন শাহরিয়ার, উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল-আমিন, চৌফলদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনজুর আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
সম্পাদক ও প্রকাশক : রকসী সিকদার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ