প্রিন্ট এর তারিখ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬||
প্রিন্ট এর সময়:
১১:০১ এএম ||
রানী স্পার নামে চলছে প্রকাশ্যে দেহ ব্যবসা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
কক্সবাজারের পর্যটন এলাকার আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টকেন্দ্রিক কয়েকটি স্পা সেন্টারের বিরুদ্ধে ম্যাসাজ ও থেরাপির আড়ালে দেহ ব্যবসা, মাদক সেবন ও পর্যটকদের ব্ল্যাকমেইলসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে শহরের হোটেল-মোটেল জোনের রয়েল পার্ক রিসোর্টের দ্বিতীয় তলায় পরিচালিত ‘রানী স্পা’ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।কক্সবাজারের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোন ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন নামে একাধিক স্পা সেন্টার গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। কোথাও স্পা, কোথাও বিউটি পার্লার বা থাই ম্যাসাজ সেন্টার হিসেবে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বডি ম্যাসাজ ও স্পা সেবার আড়ালে এখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে যাতায়াত করেন।সুগন্ধা এলাকার পূর্ব পাশে রয়েল পার্ক রিসোর্টের দ্বিতীয় তলায় ‘রানী স্পা’ পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদ কমিটির কয়েকজন সদস্যের অভিযোগ, আবাসিক এলাকার মধ্যে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হওয়ায় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং পরিবার নিয়ে চলাচলকারী মানুষ বিব্রত হচ্ছেন।তাদের দাবি, স্পা সেন্টারের আড়ালে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে তা তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বৈধভাবে পরিচালিত প্রকৃত স্পা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর পার্থক্য নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কলাতলী ও হোটেল-মোটেল জোনে লাক্সারি থাই স্পা, স্মার্ট থাই স্পা, অ্যাঞ্জেল টাচ থাই স্পা, নিউ সেভেন স্কাই থাই স্পা, রিলেক্স থাই স্পা, অ্যারোমা থাই স্পা, ব্ল্যাক রোজ থাই স্পা, সানসেট বে স্পা সার্ভিস, গ্লামার ওয়ার্ল্ড, সুইডিশ থাই স্পা, নিউ ডায়মন্ড থাই স্পাসহ বিভিন্ন নামে প্রতিষ্ঠান রয়েছে।এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটির বিরুদ্ধে ম্যাসাজের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।কিছু স্পা সেন্টারে ফুল বডি ম্যাসাজের নামে ঘণ্টাপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন বয়সী নারী কর্মীদের দিয়ে এসব সেবা দেওয়া হয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কার্যক্রম চলে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। স্পা সেন্টারগুলোতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী কর্মী আনা হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।কয়েকজন স্থানীয় ও পর্যটকের অভিযোগ, কিছু স্পা সেন্টারে গোপনে ভিডিও ধারণ করে পরবর্তী সময়ে গ্রাহকদের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের মতো ঘটনাও ঘটছে। এ ধরনের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।কক্সবাজার পৌরসভার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান স্পা সেন্টার হিসেবে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়ার পর বর্তমানে বিউটি পার্লার হিসেবে লাইসেন্স নিচ্ছে।পৌরসভার লাইসেন্স ইন্সপেক্টর প্রমোদ পাল জানান, শুরুতে স্পা সেন্টার হিসেবে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হলেও বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান বিউটি পার্লার হিসেবে ট্রেড লাইসেন্স নিচ্ছে।সচেতন মহলের অভিযোগ, পর্যটন শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় কক্সবাজারের পর্যটন ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাদের দাবি, বৈধ স্পা ব্যবসার আড়ালে কোনো প্রতিষ্ঠান অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে কি না, তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন।স্থানীয়রা ‘রানী স্পা’সহ অভিযোগ ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগের প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : রকসী সিকদার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ