প্রিন্ট এর তারিখ: ২৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ: ২৪ মে ২০২৬||
প্রিন্ট এর সময়:
১১:১৪ এএম ||
৩ ঘণ্টায় ৩ শতাধিক মাদক মামলার আলামত ধ্বংস
আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ ||
* প্রশংসায় ভাসছেন বিচারকের মাদকদ্রব্য ধ্বংস কমিটি* সরকারি অর্থ ও ঘটা করে অনুষ্ঠান ছাড়াই মাসে বারবার মাদক ধ্বংসতিন ঘণ্টার ব্যবধানে আদালত প্রাঙ্গণে ধ্বংস করা হয়েছে বহু মাদক মামলার আলামত। এতে ৩ শতাধিক মামলার আলামত ধ্বংসের পাশাপাশি বিচারকার্য শেষ হওয়া মামলার আসামিদের মধ্যেও সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৩ মে বিকেল ৩টার দিকে বিচারকের মাদকদ্রব্য ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালিত হয়।এসময় উপস্থিত ছিলেন বিচারকের মাদকদ্রব্য ধ্বংস কমিটির চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইরফানুল হক চৌধুরী, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গিয়াস উদ্দিন।তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির মুহাম্মদ শাহজাহান নূরী।এদিকে আদালতের নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য সংস্থার মতো কোনো আর্থিক খরচ কিংবা জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান ছাড়াই মাদক ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় এটি প্রশংসিত হয়েছে। একই সঙ্গে সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে কার্যকর ভূমিকা রাখছে এই উদ্যোগ। আদালত প্রাঙ্গণে জনসম্মুখে কোটি কোটি টাকার মাদকদ্রব্য আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করতে দেখা যায়।এতে একদিকে যেমন মাদক ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে লাখো যুবক মাদকসেবন থেকে রক্ষা পাচ্ছে। পাশাপাশি জনসচেতনতাও তৈরি হচ্ছে।বিনষ্টকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে ২৮ লাখ ৬৯ হাজার ৪৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৪ কেজি ৪৪০ গ্রাম গাঁজা, ৯ কেজি ৯৯০ গ্রাম হেরোইন, ১ কেজি ৬৩০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস এবং ৫৯৪ লিটার দেশীয় চোলাই মদ। ধ্বংস করা এসব মাদকের আনুমানিক সিজার মূল্য ৮৬ কোটি ৭৩ লাখ ২১ হাজার টাকা।সূত্রে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন মাদক মামলার বিচারকার্য শেষে জব্দকৃত আলামত বিচারকের এই কমিটির মাধ্যমে ধ্বংস করা হচ্ছে। জব্দকৃত মামলার আলামতগুলো আদালতের বিবিধ মিস মামলার মাধ্যমে ধ্বংসের অনুমতি প্রদান করেন কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। পরে বিশেষ প্রক্রিয়ায় মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (নাজির) এম.এ.ই. মোহাম্মদ শাহজাহান নূরী জানান, বিচারকের মাদকদ্রব্য ধ্বংস কমিটির মাধ্যমে প্রতি মাসে কয়েকশ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস হচ্ছে। একই সঙ্গে মামলাও নিষ্পত্তি হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, অন্যান্য সংস্থার মতো উৎসবমুখর অনুষ্ঠান ছাড়াই বিনা খরচে নিয়মিত মাদক ধ্বংস করা হয়। তবে প্রচারণার অভাবে সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি পৌঁছায় না। তাই প্রতিটি মাদক ধ্বংস কার্যক্রম প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ বিনা খরচে শত শত কোটি টাকার মাদক ধ্বংসের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করতে পারছে। কারণ বিচারকের ধ্বংস কমিটির উপস্থিতি ছাড়া মাদকদ্রব্য ধ্বংস সম্পূর্ণ বেআইনি ও আইনসিদ্ধ নয়।অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম বলেন, বিচারকের মাদক ধ্বংস কমিটির মাধ্যমে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল হচ্ছে। যুবসমাজ মাদকসেবন থেকে রক্ষা পাচ্ছে। একই সঙ্গে বহু মামলার নিষ্পত্তিও হচ্ছে। বিচারকদের এ ধরনের কার্যক্রম প্রশংসনীয়। তিনি মনে করেন, মাদক ধ্বংসের বিষয়টি প্রচারিত হলে যুবসমাজের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : রকসী সিকদার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ