প্রিন্ট এর তারিখ: ২৭ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ: ২৭ মে ২০২৬||
প্রিন্ট এর সময়:
১২:৫৩ পিএম ||
বিদেশী দাতাসংস্থার কোরবানীর পশু লুটে নিচ্ছে এনজিও ‘ছাওয়াব’
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
পবিত্র ঈদ-উল আযহা উপলক্ষ্যে বিদেশী দাতাসংস্থা সমূহের দেওয়া গরু-ছাগলগুলো অত্যন্ত সুকৌশলে লুটে নিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত দেশীয় এনজিও সংস্থা ‘ছাওয়াব’ এর বিরুদ্ধে। একাধিক জামায়াত নেতার স্বার্থ রক্ষা করতে সংস্থাটি প্রতি বছরই কোরবানীর পশু নিয়ে এধরণের নয়ছয় করে আসছে বলে প্রমাণ মিলেছে। পাশাপাশি উপকারভোগীদের মাঝে প্রতিশ্রুত মাংস বিতরণ না করেও; করা হয়েছে মর্মে বানোয়াট প্রত্যয়ন আদায় করে থাকে সংস্থাটি। বিনিময়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনকে ঘুষ হিসেবে দেওয়া হয় নির্দষ্ট সংখ্যক ছাগল। এসব ছাগলও বিদেশী দাতাসংস্থার দেওয়া কোরবানীর পশু। এভাবেই ছাওয়াব এনজিও কার্যক্রমের নামে বিদেশী দাতাসংস্থা সমূহের দেওয়া কোরবানীর পশু নিয়ে নয়ছয় অব্যাহত রেখেছে।জানা যায়- এনজিও ব্যুরোর নির্দেশনা মোতাবেক দাতা সংস্থা কর্তৃক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দেওয়া অনুদানের ২৫ শতাংশ স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ থাকবে। বরাদ্দের এসব ত্রাণ সহায়তা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে বিতরণ করার কথা রয়েছে। কিন্তু এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী এনজিও সমূহ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দকৃত ২৫ শতাংশ সহায়তা নিজেদের মতো ভাগ বাটোয়ারা করে আসছে।সূত্র বলছে- এবছর পবিত্র ঈদ-উল আযহা উপলক্ষ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও ছাওয়াব ১১ হাজার ৫শত ৫৫ কেজি মাংস বিতরণের জন্য বিদেশী দাতাসংস্থা সমূহের কাছ থেকে বরাদ্দ পেয়েছে। এর ২৫ শতাংশ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ হিসাব করে প্রায় ২ হাজার ৯শত কেজি মাংস বা সমপরিমাণ পশু কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কাছে জমা করার কথা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সংস্থাটি জেলা প্রশাসনকে ৫০ কেজি ওজনের শুধুমাত্র ১৯টি গরু জমা করার পরিকল্পনা নিয়েছে। যা ওজনে মাত্র ৯শত কেজি। বাকি ২ হাজার কেজি মাংস পুরোটাই রয়ে যাচ্ছে হিসাবের বাইরে। এই অনিয়মের বৈধতা পেতে সংস্থাটি জেলা প্রশাসনকে দিচ্ছে দাতাসংস্থার দেওয়া কোরবানীর ৬টি ছাগল।অভিযোগ উঠেছে- গেলো বছরও ঈদ-উল আযহায় এনজিও ছাওয়াব বাবদ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ২১টি কোরবানীর গরু মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের কাছে বুঝিয়ে না দিয়ে মহেশখালীর জামায়াত নেতা ও সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আযাদকে প্রদান করা হয়। এঘটনায় তৎকালীন মহেশখালীর ইউএনও ক্ষুব্ধ হয়ে আর প্রত্যয়ন প্রদান করেননি। একই সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১২ ও ১৪ নাম্বার ক্যাম্প ও তৎসংলগ্ন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতিশ্রুত ও বরাদ্দকৃত মাংসও যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিতরণ করা হয়নি। শুধু তাই নয়- ২ কেজি করে প্রায় ৪ হাজার পরিবারকে এসব মাংস বিতরণ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও মাত্র হাজার খানেক পরিবারের কাছে মাংস বিতরণ করে বাকি হাজার হাজার পরিবারকে মাংস না দিয়েই ফেরত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫০ প্যাকেট মাংস ছিলো ফ্রিজে সংরক্ষিত ও নিম্নমানের।এসব অভিযোগের বিষয়ে শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের সহকারী সচিব নওশের ইবনে হালিম দফায় দফায় জবাব চেয়েও অভিযুক্ত সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তোর পাননি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : রকসী সিকদার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ