কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া এবং ঝিলংজার খরুলিয়াসহ বন্যাকবলিত এলাকার অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে সরাসরি মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে গিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজিমুল হক। সোমবার ১৩ জুলাই তিনি বন্যাকবলিত বিভিন্ন দুর্গত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) সাজেদুর রহমান।পরিদর্শনকালে পুলিশের এই দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বর্তমান অবস্থা ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। একই সাথে বন্যাকবলিত এলাকায় সাধারণ মানুষের সহায়তায় পুলিশের চলমান উদ্ধার ও মানবিক কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন এবং মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে প্রশাসনের এমন শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরাসরি মাঠে উপস্থিতি স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিপদের এই চরম মুহূর্তে ঘরে বা অফিসে বসে না থেকে সরাসরি দুর্গত এলাকায় এসে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই একজন প্রকৃত জনসেবকের পরিচয়। বাংলাদেশ পুলিশের এমন মানবিক উদ্যোগ ও দায়িত্বশীলতা সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার আলো ও আস্থা সঞ্চার করেছে।পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত ডিআইজি নাজিমুল হক জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা দুর্গতদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দিচ্ছে। একই সাথে যেখানে যা প্রয়োজন, সেখানে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী নিশ্চিত করা হচ্ছে।তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিনিয়ত জুম মিটিং ও বিভিন্ন মাধ্যমে এই বন্যা পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন এবং দুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে কড়া নির্দেশনা দিচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, চিকিৎসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মীরা প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ঘরবাড়ি বা দোকানপাটে চুরি-ডাকাতি কিংবা মাদক পাচারের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। চকরিয়া, পেকুয়া ও সদরের মতো যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা বেশি, সেখানে আমাদের টিম উদ্ধার ও ত্রাণ কাজে বেশি ব্যস্ত রয়েছে। তবে এর বাইরে উখিয়া, টেকনাফ, রামু ও ঈদগাঁও-এর মতো সীমান্ত বা সংলগ্ন এলাকাগুলোতে আমাদের নিয়মিত চেকপোস্ট ও নজরদারি জোরদার রয়েছে। ইয়াবা পাচার বা যেকোনো ধরনের অপরাধ রুখতে পুলিশ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে আছে।বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি মাঠপর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, "সংবাদকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্টিংয়ের কারণেই প্রশাসন দ্রুত জানতে পারছে কোথায় ত্রাণের ঘাটতি রয়েছে বা কোথায় মানুষ বেশি কষ্টে আছে। সেই অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজসেবক এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) এই মানবিক উদ্যোগে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হওয়াকে তিনি 'অনন্য ভ্রাতৃত্ববোধের' এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।সবশেষে তিনি বলেন, দুর্যোগের তীব্রতা ধীরে ধীরে কমছে এবং বৃষ্টিপাত কমে আসায় আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে পানি সম্পূর্ণ নেমে যাবে। বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন ও জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতেও জেলা ও পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬
কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া এবং ঝিলংজার খরুলিয়াসহ বন্যাকবলিত এলাকার অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে সরাসরি মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে গিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজিমুল হক। সোমবার ১৩ জুলাই তিনি বন্যাকবলিত বিভিন্ন দুর্গত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) সাজেদুর রহমান।পরিদর্শনকালে পুলিশের এই দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বর্তমান অবস্থা ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। একই সাথে বন্যাকবলিত এলাকায় সাধারণ মানুষের সহায়তায় পুলিশের চলমান উদ্ধার ও মানবিক কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন এবং মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে প্রশাসনের এমন শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরাসরি মাঠে উপস্থিতি স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিপদের এই চরম মুহূর্তে ঘরে বা অফিসে বসে না থেকে সরাসরি দুর্গত এলাকায় এসে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই একজন প্রকৃত জনসেবকের পরিচয়। বাংলাদেশ পুলিশের এমন মানবিক উদ্যোগ ও দায়িত্বশীলতা সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার আলো ও আস্থা সঞ্চার করেছে।পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত ডিআইজি নাজিমুল হক জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা দুর্গতদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দিচ্ছে। একই সাথে যেখানে যা প্রয়োজন, সেখানে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী নিশ্চিত করা হচ্ছে।তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিনিয়ত জুম মিটিং ও বিভিন্ন মাধ্যমে এই বন্যা পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন এবং দুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে কড়া নির্দেশনা দিচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, চিকিৎসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মীরা প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ঘরবাড়ি বা দোকানপাটে চুরি-ডাকাতি কিংবা মাদক পাচারের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। চকরিয়া, পেকুয়া ও সদরের মতো যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা বেশি, সেখানে আমাদের টিম উদ্ধার ও ত্রাণ কাজে বেশি ব্যস্ত রয়েছে। তবে এর বাইরে উখিয়া, টেকনাফ, রামু ও ঈদগাঁও-এর মতো সীমান্ত বা সংলগ্ন এলাকাগুলোতে আমাদের নিয়মিত চেকপোস্ট ও নজরদারি জোরদার রয়েছে। ইয়াবা পাচার বা যেকোনো ধরনের অপরাধ রুখতে পুলিশ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে আছে।বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি মাঠপর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, "সংবাদকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্টিংয়ের কারণেই প্রশাসন দ্রুত জানতে পারছে কোথায় ত্রাণের ঘাটতি রয়েছে বা কোথায় মানুষ বেশি কষ্টে আছে। সেই অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজসেবক এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) এই মানবিক উদ্যোগে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হওয়াকে তিনি 'অনন্য ভ্রাতৃত্ববোধের' এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।সবশেষে তিনি বলেন, দুর্যোগের তীব্রতা ধীরে ধীরে কমছে এবং বৃষ্টিপাত কমে আসায় আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে পানি সম্পূর্ণ নেমে যাবে। বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন ও জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতেও জেলা ও পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
