কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা পাচারে নৌবাহিনীর স্টিকার ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে বহিষ্কৃত নৌবাহিনীর সদস্য সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ রামুতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নৌবাহিনীর স্টিকার লাগানো প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল গাড়ি ফেলে একটি ব্যাগ নিয়ে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।সাইফুল ইসলাম (৩৩) চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকার নাজিরপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ বশির ও মাতার নাম স্বপ্না বেগম। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তাঁর স্থায়ী ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গুপীনাথপুরে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের পতেঙ্গা নাজিরপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৭ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের হাতে তিনি গ্রেপ্তার হন। একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর পতেঙ্গা মডেল থানা পুলিশের হাতে এবং ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর বাকলিয়া থানা পুলিশের হাতে এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীসহ তিনি গ্রেপ্তার হন।স্থানীয় সূত্রের দাবি, টেকনাফের কয়েকজন মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে নৌবাহিনীর স্টিকার লাগানো বিলাসবহুল গাড়িতে করে চট্টগ্রাম, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করতেন সাইফুল। তাঁর সঙ্গে কক্সবাজারের চাকমারকুল ইউনিয়নের ভুতপাড়া এলাকার মাদক কারবারি সাইদুলের দীর্ঘদিনের মাদক ব্যবসা ছিল।সূত্র জানায়, সাইফুল ইসলাম নৌবাহিনীতে ‘সেইলর’ পদে কর্মরত ছিলেন। মাদক-সংক্রান্ত ঘটনায় জড়িয়ে পড়ার পর তিনি চাকরি হারান। এরপর থেকেই তিনি আরও বেশি করে মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন এবং বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা সরবরাহ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।জানা গেছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি টিম কক্সবাজার থেকে সাইফুল ইসলামকে ধাওয়া করে। এ সময় তিনি কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে রামুর তেচ্ছিফুল স্টেশনের লম্বারীপাড়া সড়ক দিয়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।স্থানীয়দের ভাষ্য, নৌবাহিনীর স্টিকার লাগানো গাড়িটি হঠাৎ করে বেপরোয়া গতিতে সড়কে প্রবেশ করায় তাঁদের সন্দেহ হয়। স্থানীয়রা গাড়িটি ঘেরাও করার আগেই পেছন থেকে হেলমেট পরা এক ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে আসেন। পরে সাইফুল গাড়ির দরজা খুলে নিমিষেই একটি ব্যাগ নিয়ে ওই মোটরসাইকেলে উঠে দ্রুত পালিয়ে যান।ঘটনাস্থলে উপস্থিত রামু উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য হেলাল উদ্দিন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি প্রশাসনকে জানান। পরে রামুর চাকমারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জামালকে গাড়িটি পুলিশ আসা পর্যন্ত হেফাজতে রাখার জন্য বলা হয়। রাত ১০টার দিকে রামু থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়িটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।রামু থানার এএসআই কোরবান আলী জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে লাল রঙের একটি টয়োটা সি-এইচআর গাড়ি জব্দ করেন। গাড়িটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা। গাড়িতে সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির আটটি এনআইডি কার্ডের ফটোকাপি, তাঁর নামে থাকা গাড়ির কাগজপত্র, একটি নৌবাহিনীর পরিচয়পত্র এবং নৌবাহিনীর একটি পোশাক পাওয়া গেছে।স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল বলেন, নৌবাহিনীর স্টিকার লাগানো গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে চলতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে গাড়িতে থাকা ব্যক্তি একটি ব্যাগ নিয়ে মোটরসাইকেলে করে দ্রুত পালিয়ে যান। প্রশাসনের গাড়ি হলে এভাবে বেপরোয়া গতিতে চলার কথা নয়।স্থানীয় সাংবাদিক জয়নাল অভিযোগ করেন, প্রশাসনের বিভিন্ন বাহিনীর স্টিকার ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত মাদক পাচার করছে কারবারিরা। সাইফুল ইসলামও নৌবাহিনীর স্টিকার ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে মাদক পরিবহনের চেষ্টা করছিলেন। তিনি সাইফুল ইসলামকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।এদিকে গাড়িটি থানায় নেওয়ার পর সেটি ছাড়িয়ে নিতে সাইফুল ইসলাম বিভিন্নভাবে তদবির করেছেন বলেও জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলে জানা গেছে।বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, মাদক কারবারের মাধ্যমে সাইফুল ইসলাম গাড়ি-বাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর ১০ থেকে ১২টি বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে বলেও সূত্রটি দাবি করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়ার সময় বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ফেলে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে সূত্রের দাবি।এ বিষয়ে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক বলেন, গাড়িটি বর্তমানে রামু থানায় রয়েছে। রামু থানা পুলিশ গাড়িটি জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং কাগজপত্র আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা পাচারে নৌবাহিনীর স্টিকার ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে বহিষ্কৃত নৌবাহিনীর সদস্য সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ রামুতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নৌবাহিনীর স্টিকার লাগানো প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল গাড়ি ফেলে একটি ব্যাগ নিয়ে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।সাইফুল ইসলাম (৩৩) চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকার নাজিরপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ বশির ও মাতার নাম স্বপ্না বেগম। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তাঁর স্থায়ী ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গুপীনাথপুরে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের পতেঙ্গা নাজিরপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৭ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের হাতে তিনি গ্রেপ্তার হন। একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর পতেঙ্গা মডেল থানা পুলিশের হাতে এবং ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর বাকলিয়া থানা পুলিশের হাতে এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীসহ তিনি গ্রেপ্তার হন।স্থানীয় সূত্রের দাবি, টেকনাফের কয়েকজন মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে নৌবাহিনীর স্টিকার লাগানো বিলাসবহুল গাড়িতে করে চট্টগ্রাম, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করতেন সাইফুল। তাঁর সঙ্গে কক্সবাজারের চাকমারকুল ইউনিয়নের ভুতপাড়া এলাকার মাদক কারবারি সাইদুলের দীর্ঘদিনের মাদক ব্যবসা ছিল।সূত্র জানায়, সাইফুল ইসলাম নৌবাহিনীতে ‘সেইলর’ পদে কর্মরত ছিলেন। মাদক-সংক্রান্ত ঘটনায় জড়িয়ে পড়ার পর তিনি চাকরি হারান। এরপর থেকেই তিনি আরও বেশি করে মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন এবং বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা সরবরাহ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।জানা গেছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি টিম কক্সবাজার থেকে সাইফুল ইসলামকে ধাওয়া করে। এ সময় তিনি কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে রামুর তেচ্ছিফুল স্টেশনের লম্বারীপাড়া সড়ক দিয়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।স্থানীয়দের ভাষ্য, নৌবাহিনীর স্টিকার লাগানো গাড়িটি হঠাৎ করে বেপরোয়া গতিতে সড়কে প্রবেশ করায় তাঁদের সন্দেহ হয়। স্থানীয়রা গাড়িটি ঘেরাও করার আগেই পেছন থেকে হেলমেট পরা এক ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে আসেন। পরে সাইফুল গাড়ির দরজা খুলে নিমিষেই একটি ব্যাগ নিয়ে ওই মোটরসাইকেলে উঠে দ্রুত পালিয়ে যান।ঘটনাস্থলে উপস্থিত রামু উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য হেলাল উদ্দিন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি প্রশাসনকে জানান। পরে রামুর চাকমারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জামালকে গাড়িটি পুলিশ আসা পর্যন্ত হেফাজতে রাখার জন্য বলা হয়। রাত ১০টার দিকে রামু থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়িটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।রামু থানার এএসআই কোরবান আলী জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে লাল রঙের একটি টয়োটা সি-এইচআর গাড়ি জব্দ করেন। গাড়িটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা। গাড়িতে সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির আটটি এনআইডি কার্ডের ফটোকাপি, তাঁর নামে থাকা গাড়ির কাগজপত্র, একটি নৌবাহিনীর পরিচয়পত্র এবং নৌবাহিনীর একটি পোশাক পাওয়া গেছে।স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল বলেন, নৌবাহিনীর স্টিকার লাগানো গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে চলতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে গাড়িতে থাকা ব্যক্তি একটি ব্যাগ নিয়ে মোটরসাইকেলে করে দ্রুত পালিয়ে যান। প্রশাসনের গাড়ি হলে এভাবে বেপরোয়া গতিতে চলার কথা নয়।স্থানীয় সাংবাদিক জয়নাল অভিযোগ করেন, প্রশাসনের বিভিন্ন বাহিনীর স্টিকার ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত মাদক পাচার করছে কারবারিরা। সাইফুল ইসলামও নৌবাহিনীর স্টিকার ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে মাদক পরিবহনের চেষ্টা করছিলেন। তিনি সাইফুল ইসলামকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।এদিকে গাড়িটি থানায় নেওয়ার পর সেটি ছাড়িয়ে নিতে সাইফুল ইসলাম বিভিন্নভাবে তদবির করেছেন বলেও জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলে জানা গেছে।বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, মাদক কারবারের মাধ্যমে সাইফুল ইসলাম গাড়ি-বাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর ১০ থেকে ১২টি বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে বলেও সূত্রটি দাবি করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়ার সময় বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ফেলে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে সূত্রের দাবি।এ বিষয়ে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক বলেন, গাড়িটি বর্তমানে রামু থানায় রয়েছে। রামু থানা পুলিশ গাড়িটি জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং কাগজপত্র আদালতে পাঠানো হয়েছে।
