ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক বাংলাদেশ

মাদক প্রতিরোধে রামুতে পুলিশের র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সমাবেশ

‘মাদক প্রতিরোধ করি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কক্সবাজারের রামুতে মাদকবিরোধী র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সমাবেশ করেছে রামু থানা পুলিশ। মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে পুলিশি অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয় কর্মসূচিতে।শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ৩টায় রামু থানার ফতেকারকুল বিটের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। রামু থানা প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য র‌্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌমুহনী স্টেশনে গিয়ে শেষ হয়।র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল মাদকবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন। এ সময় ‘মাদককে না বলুন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ুন’ এবং ‘মাদক প্রতিরোধ করি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করি’—এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রামুর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো।মাদকবিরোধী এ কর্মসূচিতে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে মাদকের বিস্তার পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব নয়; এ জন্য পরিবার, সমাজ ও সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।র‌্যালি শেষে চৌমুহনী স্টেশনে অনুষ্ঠিত সচেতনতামূলক সমাবেশে বক্তারা মাদকের ভয়াবহতা, তরুণ প্রজন্মের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।সমাবেশে রামু উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বশর বাবু বলেন, মাদক একটি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না; একটি পরিবার, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও বিপথে ঠেলে দেয়।তিনি বলেন, “মাদক একটি এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও বড় হুমকি। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদেরও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।”মাদক কারবারিদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”সমাবেশে প্রধান বক্তব্যে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক বলেন, রামুর বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য সৎ ও ভালো ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা এলাকার উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তবে এর মধ্যেও কিছু ব্যক্তি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।তিনি বলেন, “মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে পুলিশের কাছে তালিকা রয়েছে। তবে তাদের সঠিক পরিচয়, অবস্থান ও কর্মকাণ্ড শনাক্ত করতে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আপনারা তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করুন। মাদক ব্যবসায়ীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”ওসি এ কে ফজলুল হক আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ও আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা আরও জোরদার করা হবে। তবে মাদক নির্মূলে পুলিশের একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা বলেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে ‘না’ বলার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে চলাফেরা করছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদেরও নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন রামু থানার এসআই (নিরস্ত্র) নিক্সন চৌধুরী, বিএনপি নেতা আতিক চৌধুরী, রামু উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী তানভীর ইসলাম অভি, ফতেকারকুলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন, স্থানীয় মহিলা বিএনপি নেত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।স্থানীয়দের অংশগ্রহণে পুলিশের এ মাদকবিরোধী কর্মসূচি রামুতে মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।

মাদক প্রতিরোধে রামুতে পুলিশের র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সমাবেশ