ঢাকা    শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
দৈনিক বাংলাদেশ

অপরাধ

হাইকোর্টে রিটের দোহাই দিয়ে ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে সাড়ে ৮ লাখ হাতিয়ে নিল নৌকার চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক

মহেশখালী উপজেলার ৪ নম্বর শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনুপস্থিতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা। জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের ১০ জন সদস্যের স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগপত্রটি বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদুল আলমের নেতৃত্বে ইউএনও বরাবর জমা দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ গত ১২ জানুয়ারি ২০২৫ সালে শেষ হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। সে সময় প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলেও চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক চৌধুরী উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করে পূর্বের পরিষদ বহাল রাখেন। ইউপি সদস্যদের দাবি, রিট আবেদনের জন্য প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা করে মোট ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। তারা ওই অর্থ ফেরত দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সদস্যদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন এবং মাইকিং করে তাদের পদ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হলে তিনি সদস্যদের হুমকি ও গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন পরিষদে অনুপস্থিত থেকেও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, বাজেট ও সরকারি বরাদ্দে অনিয়ম করেছেন। টিআর, কাবিখা, এডিবি ও ইউডিবি প্রকল্পের বরাদ্দ বণ্টনে স্বচ্ছতা ছিল না বলেও তারা দাবি করেন। অভিযোগপত্রে শাপলা পুকুর খনন প্রকল্প, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন নিয়োগ, ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট ব্যয়, কক্ষ ও ক্যান্টিন ভাড়া প্রদান, পানি সরবরাহ প্রকল্পে নিয়োগসহ নানা খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ, বনভূমি দখল ও অন্যান্য অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগও তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, ইউনিয়ন পরিষদে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের বিষয়ে তার মতামত জানার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।

হাইকোর্টে রিটের দোহাই দিয়ে ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে সাড়ে ৮ লাখ হাতিয়ে নিল নৌকার চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক