ঢাকা    শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
দৈনিক বাংলাদেশ

উপকূলের ডিএফও হাসানের জন্য টাকা তোলেন রেঞ্জার জহির



উপকূলের ডিএফও হাসানের জন্য টাকা তোলেন রেঞ্জার জহির
চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এম এ হাসানের নাম ব্যবহার করে মামলা না দেওয়ার আশ্বাস এবং বন বিভাগের জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ছনুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগের সমর্থনে একাধিক অডিও রেকর্ড ও টাকা গ্রহণের ভিডিওচিত্র প্রতিবেদকের হাতে এসেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ছনুয়া রেঞ্জে যোগদানের পর থেকেই জহিরুল ইসলাম বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের কার্যক্রম শুরু করেন এবং নিজেকে ডিএফওর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন।

একটি অডিও রেকর্ডে জহিরুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে মোক্তার হোসেন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে তিনি অভিযোগ অনুযায়ী বলেন, ডিএফওর জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু টাকা না পাওয়ায় মামলা দেওয়ার চাপ আসছে।

জবাবে মোক্তার হোসেন বলেন, তিনি কোনো অবৈধ দখল বা বন উজাড়ের সঙ্গে জড়িত নন এবং অতীতে কোনো বন কর্মকর্তাকে টাকা দিতে হয়নি। তিনি ডিএফওর উপস্থিতিতে টাকা দেওয়ার প্রস্তাবও দেন বলে অডিওতে শোনা যায়।

কথোপকথনের এক পর্যায়ে জহিরুল ইসলাম বন বিভাগের জমি, লিজ ও খাজনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে টাকা-পয়সার ব্যবস্থা করার জন্য সময় চান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে মোক্তার হোসেন আপাতত ২০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও জহিরুল ইসলাম ডিএফওর সঙ্গে বিষয়টি সমন্বয়ের কথা বলেন বলে অডিওতে শোনা যায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ মে পেকুয়া বাজারে মোক্তার হোসেন রেঞ্জ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন। টাকা গ্রহণের দৃশ্য একটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া আব্বাস নামের আরেক ব্যক্তির কাছ থেকেও ডিএফওর নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ছনুয়া বিট এলাকায় প্রায় ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে বন বিভাগের জমি এক ব্যক্তির কাছে অলিখিতভাবে হস্তান্তরের অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপকূলীয় বন বিভাগকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। জহিরুল ইসলামের কথিত অডিও ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তাকে ছনুয়া রেঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করা হলেও বিষয়টি নিয়ে এখনও জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ডিএফও এম এ হাসান বলেন, “আমি আমার চাকরি জীবনে কোনো ধরনের ঘুষ গ্রহণ করিনি। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে ক্লোজড করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হবে।”

চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে।”

দৈনিক বাংলাদেশ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


উপকূলের ডিএফও হাসানের জন্য টাকা তোলেন রেঞ্জার জহির

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image
চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এম এ হাসানের নাম ব্যবহার করে মামলা না দেওয়ার আশ্বাস এবং বন বিভাগের জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ছনুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগের সমর্থনে একাধিক অডিও রেকর্ড ও টাকা গ্রহণের ভিডিওচিত্র প্রতিবেদকের হাতে এসেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ছনুয়া রেঞ্জে যোগদানের পর থেকেই জহিরুল ইসলাম বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের কার্যক্রম শুরু করেন এবং নিজেকে ডিএফওর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন।

একটি অডিও রেকর্ডে জহিরুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে মোক্তার হোসেন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে তিনি অভিযোগ অনুযায়ী বলেন, ডিএফওর জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু টাকা না পাওয়ায় মামলা দেওয়ার চাপ আসছে।

জবাবে মোক্তার হোসেন বলেন, তিনি কোনো অবৈধ দখল বা বন উজাড়ের সঙ্গে জড়িত নন এবং অতীতে কোনো বন কর্মকর্তাকে টাকা দিতে হয়নি। তিনি ডিএফওর উপস্থিতিতে টাকা দেওয়ার প্রস্তাবও দেন বলে অডিওতে শোনা যায়।

কথোপকথনের এক পর্যায়ে জহিরুল ইসলাম বন বিভাগের জমি, লিজ ও খাজনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে টাকা-পয়সার ব্যবস্থা করার জন্য সময় চান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে মোক্তার হোসেন আপাতত ২০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও জহিরুল ইসলাম ডিএফওর সঙ্গে বিষয়টি সমন্বয়ের কথা বলেন বলে অডিওতে শোনা যায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ মে পেকুয়া বাজারে মোক্তার হোসেন রেঞ্জ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন। টাকা গ্রহণের দৃশ্য একটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া আব্বাস নামের আরেক ব্যক্তির কাছ থেকেও ডিএফওর নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ছনুয়া বিট এলাকায় প্রায় ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে বন বিভাগের জমি এক ব্যক্তির কাছে অলিখিতভাবে হস্তান্তরের অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপকূলীয় বন বিভাগকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। জহিরুল ইসলামের কথিত অডিও ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তাকে ছনুয়া রেঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করা হলেও বিষয়টি নিয়ে এখনও জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ডিএফও এম এ হাসান বলেন, “আমি আমার চাকরি জীবনে কোনো ধরনের ঘুষ গ্রহণ করিনি। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে ক্লোজড করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হবে।”

চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে।”


দৈনিক বাংলাদেশ


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ