কক্সবাজারের স্থানীয় দৈনিক গণসংযোগ পত্রিকায় গত ১৬ জুন (মঙ্গলবার) ‘অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়া মুকবেকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলামের পকেটে শিক্ষার্থীদের ১৫ লাখ টাকা!’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
সংবাদে প্রকাশিত অধিকাংশ তথ্যই বাস্তবতার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাই প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরার জন্য আমি এ প্রতিবাদ প্রদান করছি।
প্রকাশিত সংবাদে অভিযোগকারী হিসেবে যার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেই নূর মোহাম্মদের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। তিনি বিদ্যালয়ের কোনো অভিভাবক, এসএমসি সদস্য বা বিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি নন। ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে আমার মানহানি করার উদ্দেশ্যে তিনি মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত অভিযোগ করেছেন।
সংবাদে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক ও প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য প্রতিবছর বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, ২০২২ সালের পর থেকে ওয়াশ ব্লকের জন্য ২০ হাজার টাকা এবং প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য ১০ হাজার টাকার পৃথক বরাদ্দ আর দেওয়া হয়নি। ফলে উল্লিখিত খাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
এছাড়া সংবাদে শিশু শ্রেণিতে কার্পেট, শিক্ষাসামগ্রী ও খেলনার অভাবের কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ সজ্জিত রয়েছে, কার্পেট বিছানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় খেলনা সামগ্রীও ক্রয় করা হয়েছে। খেলাধুলার সামগ্রী ও অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে বলতে চাই, এলজিইডির আওতায় Child Based Planning প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে খেলনা স্থাপন করা হয়েছে। কাজ শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন করে ছবিসহ প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করেছে। ফলে নিম্নমানের খেলনা নির্মাণ করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সঠিক নয়।
সংবাদে ২০১৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে প্রায় ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০০-এর কম হওয়ায় সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বছরে প্রায় ৩০ হাজার টাকার অনুদান পাওয়া যায়। এই অর্থ থেকে তিনটি সামষ্টিক পরীক্ষার ব্যয়, ভ্যাট, আয়করসহ বিভিন্ন বাধ্যতামূলক খাতে ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। ফলে প্রতিবেদনে যে বিপুল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ ও আত্মসাতের কথা বলা হয়েছে, তা প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।বিদ্যালয়ের মাঠের ইউক্যালিপটাস গাছ বিক্রির অভিযোগও সঠিক নয়। বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের প্রয়োজন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে পাঁচটি ইউক্যালিপটাস গাছ অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে সরকারি নিয়ম অনুসারে নিলামের মাধ্যমে গাছগুলো বিক্রি করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো অর্থ গ্রহণ করিনি।
এসএমসি কমিটি অকার্যকর রাখার অভিযোগ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়, যা এখনও বিচারাধীন রয়েছে।সংবাদে আমার বিরুদ্ধে নিয়মিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করা এবং সরকারি বিভিন্ন দিবস পালন না করার যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোও সত্য নয়। বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে আসছে।
আমি সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মী ও গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি, বিদ্যালয়ে সরেজমিনে এসে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও বাস্তব তথ্য যাচাই করে সঠিক সংবাদ প্রকাশ করার জন্য। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
প্রতিবাদকারী
জহিরুল ইসলাম
প্রধান শিক্ষক
মুকবেকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
শাপলাপুর, মহেশখালী, কক্সবাজার।

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
কক্সবাজারের স্থানীয় দৈনিক গণসংযোগ পত্রিকায় গত ১৬ জুন (মঙ্গলবার) ‘অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়া মুকবেকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলামের পকেটে শিক্ষার্থীদের ১৫ লাখ টাকা!’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
সংবাদে প্রকাশিত অধিকাংশ তথ্যই বাস্তবতার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাই প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরার জন্য আমি এ প্রতিবাদ প্রদান করছি।
প্রকাশিত সংবাদে অভিযোগকারী হিসেবে যার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেই নূর মোহাম্মদের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। তিনি বিদ্যালয়ের কোনো অভিভাবক, এসএমসি সদস্য বা বিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি নন। ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে আমার মানহানি করার উদ্দেশ্যে তিনি মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত অভিযোগ করেছেন।
সংবাদে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক ও প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য প্রতিবছর বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, ২০২২ সালের পর থেকে ওয়াশ ব্লকের জন্য ২০ হাজার টাকা এবং প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য ১০ হাজার টাকার পৃথক বরাদ্দ আর দেওয়া হয়নি। ফলে উল্লিখিত খাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
এছাড়া সংবাদে শিশু শ্রেণিতে কার্পেট, শিক্ষাসামগ্রী ও খেলনার অভাবের কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ সজ্জিত রয়েছে, কার্পেট বিছানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় খেলনা সামগ্রীও ক্রয় করা হয়েছে। খেলাধুলার সামগ্রী ও অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে বলতে চাই, এলজিইডির আওতায় Child Based Planning প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে খেলনা স্থাপন করা হয়েছে। কাজ শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন করে ছবিসহ প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করেছে। ফলে নিম্নমানের খেলনা নির্মাণ করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সঠিক নয়।
সংবাদে ২০১৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে প্রায় ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০০-এর কম হওয়ায় সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বছরে প্রায় ৩০ হাজার টাকার অনুদান পাওয়া যায়। এই অর্থ থেকে তিনটি সামষ্টিক পরীক্ষার ব্যয়, ভ্যাট, আয়করসহ বিভিন্ন বাধ্যতামূলক খাতে ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। ফলে প্রতিবেদনে যে বিপুল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ ও আত্মসাতের কথা বলা হয়েছে, তা প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।বিদ্যালয়ের মাঠের ইউক্যালিপটাস গাছ বিক্রির অভিযোগও সঠিক নয়। বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের প্রয়োজন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে পাঁচটি ইউক্যালিপটাস গাছ অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে সরকারি নিয়ম অনুসারে নিলামের মাধ্যমে গাছগুলো বিক্রি করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো অর্থ গ্রহণ করিনি।
এসএমসি কমিটি অকার্যকর রাখার অভিযোগ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়, যা এখনও বিচারাধীন রয়েছে।সংবাদে আমার বিরুদ্ধে নিয়মিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করা এবং সরকারি বিভিন্ন দিবস পালন না করার যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোও সত্য নয়। বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে আসছে।
আমি সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মী ও গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি, বিদ্যালয়ে সরেজমিনে এসে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও বাস্তব তথ্য যাচাই করে সঠিক সংবাদ প্রকাশ করার জন্য। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
প্রতিবাদকারী
জহিরুল ইসলাম
প্রধান শিক্ষক
মুকবেকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
শাপলাপুর, মহেশখালী, কক্সবাজার।
