ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
দৈনিক বাংলাদেশ

সন্ধানদাতার জন্য পুরস্কার ঘোষণা

ধরাছোঁয়ার বাইরে সাজাপ্রাপ্ত আসামি সেলিনা আক্তার



ধরাছোঁয়ার বাইরে সাজাপ্রাপ্ত আসামি সেলিনা আক্তার
সেলিনা আক্তার ধরাছোঁয়ার বাইরে

চেক প্রতারণা মামলায় আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি সেলিনা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাকে খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হওয়ায় ভুক্তভোগী ও প্রশাসন উভয়ই বেগ পোহাচ্ছেন। এ অবস্থায় মামলার বাদী সাজেদা আক্তার পাখি আসামির সঠিক সন্ধানদাতার জন্য উপযুক্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।

মামলার বাদী সাজেদা আক্তার পাখি কক্সবাজার পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মো. কাশেমের স্ত্রী এবং মোক্তার আহমদ ও গোলজার বেগমের কন্যা। অপরদিকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি সেলিনা আক্তার একই এলাকার বাসিন্দা। তিনি মোহাম্মদ ওবাইদুল হকের স্ত্রী এবং মৃত এজাহার মিয়ার কন্যা।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, বাদী ও আসামির মধ্যে পূর্ব পরিচয়, আত্মীয়তা এবং প্রতিবেশী সম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদে সেলিনা আক্তার তার বোনের পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত বাহারছড়ার একটি বাড়ি ও সংশ্লিষ্ট জমি ক্রয়ের কথা বলে সাজেদা আক্তার পাখির কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ধার নেন। নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে তিনি নিজের নামে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের একটি চেক প্রদান করেন।

পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর চেকটি নগদায়নের জন্য ব্যাংকে জমা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ “Insufficient Fund” উল্লেখ করে চেকটি ডিজঅনার করে। এরপর বাদী একাধিকবার যোগাযোগ করলেও আসামি নানা কৌশলে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে ২০২১ সালের ৭ জানুয়ারি আইনজীবীর মাধ্যমে আসামির ঠিকানায় লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু তাতেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এবং পাওনা টাকা পরিশোধে অস্বীকৃতি জানানোয় আদালতের শরণাপন্ন হন বাদী।

মামলার বিচার শেষে আদালত আসামি সেলিনা আক্তারকে বাদীর পাওনা ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন এবং এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। তবে রায় ঘোষণার পর থেকেই সেলিনা আক্তার আত্মগোপনে চলে যান।

এ বিষয়ে মামলার বাদী সাজেদা আক্তার পাখি বলেন, সেলিনা আক্তার আমার সঙ্গে প্রতারণা করে সরল বিশ্বাসে নেওয়া টাকা আর ফেরত দেননি। নিরুপায় হয়ে আমি আদালতে মামলা করি। আদালত আমার পক্ষে রায় দিলেও আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।

তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সেলিনা আক্তারের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনতে সহযোগিতা করলে সন্ধানদাতাকে উপযুক্ত পুরস্কার প্রদান করা হবে।

দৈনিক বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


ধরাছোঁয়ার বাইরে সাজাপ্রাপ্ত আসামি সেলিনা আক্তার

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image

চেক প্রতারণা মামলায় আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি সেলিনা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাকে খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হওয়ায় ভুক্তভোগী ও প্রশাসন উভয়ই বেগ পোহাচ্ছেন। এ অবস্থায় মামলার বাদী সাজেদা আক্তার পাখি আসামির সঠিক সন্ধানদাতার জন্য উপযুক্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।

মামলার বাদী সাজেদা আক্তার পাখি কক্সবাজার পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মো. কাশেমের স্ত্রী এবং মোক্তার আহমদ ও গোলজার বেগমের কন্যা। অপরদিকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি সেলিনা আক্তার একই এলাকার বাসিন্দা। তিনি মোহাম্মদ ওবাইদুল হকের স্ত্রী এবং মৃত এজাহার মিয়ার কন্যা।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, বাদী ও আসামির মধ্যে পূর্ব পরিচয়, আত্মীয়তা এবং প্রতিবেশী সম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদে সেলিনা আক্তার তার বোনের পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত বাহারছড়ার একটি বাড়ি ও সংশ্লিষ্ট জমি ক্রয়ের কথা বলে সাজেদা আক্তার পাখির কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ধার নেন। নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে তিনি নিজের নামে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের একটি চেক প্রদান করেন।

পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর চেকটি নগদায়নের জন্য ব্যাংকে জমা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ “Insufficient Fund” উল্লেখ করে চেকটি ডিজঅনার করে। এরপর বাদী একাধিকবার যোগাযোগ করলেও আসামি নানা কৌশলে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে ২০২১ সালের ৭ জানুয়ারি আইনজীবীর মাধ্যমে আসামির ঠিকানায় লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু তাতেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এবং পাওনা টাকা পরিশোধে অস্বীকৃতি জানানোয় আদালতের শরণাপন্ন হন বাদী।

মামলার বিচার শেষে আদালত আসামি সেলিনা আক্তারকে বাদীর পাওনা ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন এবং এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। তবে রায় ঘোষণার পর থেকেই সেলিনা আক্তার আত্মগোপনে চলে যান।

এ বিষয়ে মামলার বাদী সাজেদা আক্তার পাখি বলেন, সেলিনা আক্তার আমার সঙ্গে প্রতারণা করে সরল বিশ্বাসে নেওয়া টাকা আর ফেরত দেননি। নিরুপায় হয়ে আমি আদালতে মামলা করি। আদালত আমার পক্ষে রায় দিলেও আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।

তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সেলিনা আক্তারের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনতে সহযোগিতা করলে সন্ধানদাতাকে উপযুক্ত পুরস্কার প্রদান করা হবে।


দৈনিক বাংলাদেশ


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ