পেকুয়ায় হামলায় একই পরিবারের ৪ জন আহত, জামাতার হাত বিচ্ছিন্ন
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের দরগামুড়া এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ধারালো অস্ত্রের হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। গত ১৮ জুন বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— নুরুন্নবীর (৭০) মেয়ে জোবাইদা বেগম (৩৫), নাতি হাসান (১৩), জামাতা মো. পারভেজ (৪০) এবং নুরুন্নবী নিজে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, হামলায় মো. পারভেজের একটি হাত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া জোবাইদা বেগমের হাতের একটি আঙুল গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিকিৎসকরা তা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। হাসানের মাথা ও হাতে গুরুতর জখম হয়েছে। বর্তমানে আহতরা ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, জীবিত অবস্থায় নুরুন্নবী তার বসতভিটার সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন। তবে ছেলে আজিজুর রহমান নিজের অংশ পাওয়ার পরও অন্য ভাই-বোনদের অংশ দখলের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনার দিন জমি দখলের চেষ্টা ঠেকাতে গেলে নুরুন্নবীকে মারধর করা হয়। পরে তিনি পেকুয়া থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত আজিজুর রহমান ধারালো দা নিয়ে বাড়িতে এসে অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে বাবা-মায়ের ওপর হামলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তিনি বড় বোন জোবাইদা বেগমকে কুপিয়ে আহত করেন। মাকে রক্ষা করতে গেলে জোবাইদার ছেলে হাসানও হামলার শিকার হয়। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় জোবাইদার স্বামী মো. পারভেজের ওপর পেছন দিক থেকে হামলা চালিয়ে তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে অভিযোগ।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তাদের চট্টগ্রাম হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আজিজুর রহমান এর আগেও একাধিকবার ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হামলার চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ-বৈঠক হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।
আহত পারভেজ মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, আমি কোনো বিরোধে জড়িত ছিলাম না। হঠাৎ পেছন থেকে এসে আমার ওপর হামলা করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আমার হাত আর আগের মতো হবে না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন আহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, অভিযোগ পাওয়া মাত্র মামলা রেকর্ড করা হবে। হামলাকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ