ঢাকা    বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
দৈনিক বাংলাদেশ

সচিবের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ

পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিয়ে জনদুর্ভোগ, ৪ মাসেও মিলছে না জন্মনিবন্ধন



পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিয়ে জনদুর্ভোগ, ৪ মাসেও মিলছে না জন্মনিবন্ধন
কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন সেবা পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, আবেদন করার চার মাস পেরিয়ে গেলেও অনেক নাগরিক এখনও তাদের জন্মনিবন্ধন সনদ হাতে পাননি। ফলে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে আগ্রহী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা ও সরকারি ফি পরিশোধের পরও মাসের পর মাস ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরতে হচ্ছে। বারবার যোগাযোগ করেও মিলছে না কোনো কার্যকর সমাধান।

অভিযোগ রয়েছে, জন্মনিবন্ধনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সাধারণ মানুষকে নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি জন্মনিবন্ধনের কাজ করবেন না বলেও জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, সাধারণ মানুষ সচিবকে না পেয়ে আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসে। তখন আমি বিষয়টি নিয়ে সচিবকে ফোন করলে তিনি আমাকে বলেন, ‘আমি জন্মনিবন্ধন বের করতে পারব না, আপনি যা পারেন করেন।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, তিনি প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন। আজ-কাল করতে করতে দীর্ঘ চার মাস পার হয়ে গেলেও অনেকের জন্মনিবন্ধন প্রস্তুত করে দিচ্ছেন না। মানুষ তাঁর কাছে গেলে তিনি গ্রাম পুলিশের কাছে যেতে বলেন। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, পরিষদের অন্যান্য সদস্য ও কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তিনি প্রায়ই দুর্ব্যবহার করেন।

তিনি জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলার স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মো. শামীম আল ইমরান বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।

স্থানীয়দের দাবি, জন্মনিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা নিয়ে এমন অবহেলা ও হয়রানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সচিব সৈয়দ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার বাকবিতণ্ডা হয়েছে। এছাড়া পরিষদের অনেক কাজ আমাকে অবহিত না করেই করা হয়। আমি জন্মনিবন্ধনের কাজ করব না—এ বিষয়টি চেয়ারম্যান ও ইউএনওকে জানিয়েছি।

দৈনিক বাংলাদেশ

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬


পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিয়ে জনদুর্ভোগ, ৪ মাসেও মিলছে না জন্মনিবন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image
কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন সেবা পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, আবেদন করার চার মাস পেরিয়ে গেলেও অনেক নাগরিক এখনও তাদের জন্মনিবন্ধন সনদ হাতে পাননি। ফলে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে আগ্রহী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা ও সরকারি ফি পরিশোধের পরও মাসের পর মাস ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরতে হচ্ছে। বারবার যোগাযোগ করেও মিলছে না কোনো কার্যকর সমাধান।

অভিযোগ রয়েছে, জন্মনিবন্ধনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সাধারণ মানুষকে নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি জন্মনিবন্ধনের কাজ করবেন না বলেও জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, সাধারণ মানুষ সচিবকে না পেয়ে আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসে। তখন আমি বিষয়টি নিয়ে সচিবকে ফোন করলে তিনি আমাকে বলেন, ‘আমি জন্মনিবন্ধন বের করতে পারব না, আপনি যা পারেন করেন।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, তিনি প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন। আজ-কাল করতে করতে দীর্ঘ চার মাস পার হয়ে গেলেও অনেকের জন্মনিবন্ধন প্রস্তুত করে দিচ্ছেন না। মানুষ তাঁর কাছে গেলে তিনি গ্রাম পুলিশের কাছে যেতে বলেন। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, পরিষদের অন্যান্য সদস্য ও কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তিনি প্রায়ই দুর্ব্যবহার করেন।

তিনি জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলার স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মো. শামীম আল ইমরান বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।

স্থানীয়দের দাবি, জন্মনিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা নিয়ে এমন অবহেলা ও হয়রানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সচিব সৈয়দ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার বাকবিতণ্ডা হয়েছে। এছাড়া পরিষদের অনেক কাজ আমাকে অবহিত না করেই করা হয়। আমি জন্মনিবন্ধনের কাজ করব না—এ বিষয়টি চেয়ারম্যান ও ইউএনওকে জানিয়েছি।


দৈনিক বাংলাদেশ


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ