এক লাখ টাকার বৈদ্যুতিক কেবল উদ্ধার, আনসারের হাতে চোর গ্রেপ্তার
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে বিশেষ অভিযানে চোরাই মালামালসহ এক চোরকে হাতেনাতে আটক করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এ সময় আনুমানিক এক লাখ টাকা মূল্যের সরকারি বৈদ্যুতিক কেবল উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, রূপগঞ্জ উপজেলার বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার প্রায় ৫০-৬০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা। দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র ওই স্থাপনার বিভিন্ন মালামাল চুরির চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। বিষয়টি ক্যাম্প ইনচার্জের মাধ্যমে অবগত হওয়ার পর জেলা কমান্ড্যান্টের নির্দেশনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং বিশেষ নজরদারি কার্যক্রম শুরু করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দীন ফারুখের নেতৃত্বে এবং ক্যাম্প ইনচার্জ পিসি গৌতম সমাজপতির সরবরাহকৃত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত এক সপ্তাহ ধরে বিশেষ অভিযান ও নজরদারি পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে গত ২৩ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে চোরচক্রের সদস্যরা এক্সিবিশন সেন্টার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে মূল্যবান বৈদ্যুতিক কেবল কেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ম্যাগাজিন ডিউটিতে থাকা আনসার সদস্য মো. জাহিদ হাসান বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চোরদের ধাওয়া করেন। পরে মেইন গেটে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্য নিবাস চন্দ্র এবং ক্যাম্প ইনচার্জ পিসি গৌতম সমাজপতি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযানে অংশ নেন।
আনসার সদস্যদের তৎপরতায় চোরচক্রের দুই সদস্য পালিয়ে গেলেও তাদের মূলহোতা মো. আশিক (১৮)কে চোরাই মালামালসহ ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
আটক আশিকের পিতার নাম মো. দেলোয়ার হোসেন এবং মাতার নাম রাবেয়া বেগম। তার বাড়ি রূপগঞ্জ উপজেলার রঘুরামপুর এলাকায়। তার আরও তিন সহযোগী রয়েছে, যাদের মধ্যে দুইজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় এবং বাকিরা অজ্ঞাতনামা।
অভিযানে প্রায় ৭০ ফুট কাটা বৈদ্যুতিক কেবল উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য এক লাখ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক আশিক চুরির উদ্দেশ্যে সেখানে প্রবেশের কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া এর আগেও একই প্রাঙ্গণ থেকে প্রায় ১০০ পিস টিন ও ৭০ ফুট কেবল চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে আনসার কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজেও তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দীন ফারুখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং উদ্ধারকৃত মালামাল জব্দ করেন। পরে আটক ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রূপগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আনসার সদস্যদের দায়িত্বশীলতা, সাহসিকতা ও তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তারা বাহিনীর মহাপরিচালক, জেলা কমান্ড্যান্ট এবং অভিযানে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও একইভাবে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ