ঢাকা    শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
দৈনিক বাংলাদেশ

মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকির অভিযোগ



মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকির অভিযোগ
প্রবাসী স্বামীর ৩০ লাখ টাকা ও ৬ ভরি স্বর্ণ আত্মসাৎ করেন-উর্মিলা ও আব্দুল সাদেক

টেকনাফে প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ও ৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় টেকনাফের জালিয়াপাড়া এলাকার আবু তাহেরের ছেলে আব্দুল জব্বার, মো. আয়ুব এবং মামলার প্রধান আসামি উর্মিলা আক্তার ও আব্দুল সাদেকের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন মামলার বাদী খুরশিদা বেগম। তাঁর দাবি, মামলা তুলে না নিলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিসাধনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

খুরশিদা বেগম জানান, তাঁর একমাত্র প্রবাসী ভাইয়ের সঙ্গে টেকনাফ উপজেলার পুরান পল্লানপাড়া এলাকার উর্মিলা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রায় ছয় বছর ধরে তাঁর ভাই বিদেশে থেকে কষ্টার্জিত অর্থ উর্মিলার ব্যাংক হিসাবে পাঠান এবং প্রায় ৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কারও দেন।

অভিযোগে বলা হয়, প্রবাসী স্বামী দেশে ফেরার আগেই উর্মিলা কয়েকজনের সহযোগিতায় ব্যাংকে থাকা অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ করে শাহপরীর দ্বীপের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মগবাজার, জালিয়াপাড়া এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে আব্দুল সাদেকের সঙ্গে চলে যান এবং পরে তাঁকে বিয়ে করেন। এতে প্রবাসী স্বামী প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন বাদীপক্ষ।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর টেকনাফের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে খুরশিদা বেগম সিআর মামলা নং-৪৭০/২০২৪ দায়ের করেন। আদালত মামলাটির তদন্তভার কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ওপর ন্যস্ত করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে উর্মিলা আক্তার, আব্দুল সাদেক, আব্দুল আরিফ উল্লাহ, সানজিদা, মো. ফারুক ও নাজমাসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, তদন্তে উর্মিলা আক্তারের ব্যাংক হিসাবসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে প্রায় ২৯ লাখ ১৩ হাজার ৮৪৪ টাকা এবং ৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার প্রবাসী স্বামীর কাছ থেকে আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

এদিকে, মামলার বাদী খুরশিদা বেগমের অভিযোগ, অভিযোগপত্র দাখিলের পর থেকেই বিভিন্নভাবে তাঁকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

দৈনিক বাংলাদেশ

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬


মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

টেকনাফে প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ও ৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় টেকনাফের জালিয়াপাড়া এলাকার আবু তাহেরের ছেলে আব্দুল জব্বার, মো. আয়ুব এবং মামলার প্রধান আসামি উর্মিলা আক্তার ও আব্দুল সাদেকের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন মামলার বাদী খুরশিদা বেগম। তাঁর দাবি, মামলা তুলে না নিলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিসাধনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

খুরশিদা বেগম জানান, তাঁর একমাত্র প্রবাসী ভাইয়ের সঙ্গে টেকনাফ উপজেলার পুরান পল্লানপাড়া এলাকার উর্মিলা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রায় ছয় বছর ধরে তাঁর ভাই বিদেশে থেকে কষ্টার্জিত অর্থ উর্মিলার ব্যাংক হিসাবে পাঠান এবং প্রায় ৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কারও দেন।

অভিযোগে বলা হয়, প্রবাসী স্বামী দেশে ফেরার আগেই উর্মিলা কয়েকজনের সহযোগিতায় ব্যাংকে থাকা অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ করে শাহপরীর দ্বীপের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মগবাজার, জালিয়াপাড়া এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে আব্দুল সাদেকের সঙ্গে চলে যান এবং পরে তাঁকে বিয়ে করেন। এতে প্রবাসী স্বামী প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন বাদীপক্ষ।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর টেকনাফের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে খুরশিদা বেগম সিআর মামলা নং-৪৭০/২০২৪ দায়ের করেন। আদালত মামলাটির তদন্তভার কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ওপর ন্যস্ত করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে উর্মিলা আক্তার, আব্দুল সাদেক, আব্দুল আরিফ উল্লাহ, সানজিদা, মো. ফারুক ও নাজমাসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, তদন্তে উর্মিলা আক্তারের ব্যাংক হিসাবসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে প্রায় ২৯ লাখ ১৩ হাজার ৮৪৪ টাকা এবং ৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার প্রবাসী স্বামীর কাছ থেকে আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

এদিকে, মামলার বাদী খুরশিদা বেগমের অভিযোগ, অভিযোগপত্র দাখিলের পর থেকেই বিভিন্নভাবে তাঁকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


দৈনিক বাংলাদেশ


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ