১১ মাসে অপরাধ দমনে ধারাবাহিক সাফল্য, প্রশংসায় ভাসছেন এসআই তানভীর
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬
কক্সবাজার সদর মডেল থানায় যোগদানের পর প্রায় ১১ মাসে একের পর এক সফল অভিযানের মাধ্যমে অপরাধ দমনে আলোচনায় উঠে এসেছেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী মোহাম্মদ তানভীরুল আজম। ওয়ারেন্টভুক্ত ও দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি গ্রেফতার, বিভিন্ন অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক ইকবাল হাসানের ওপর হামলার মামলার প্রধান আসামি এহেছানকে গ্রেফতারের ঘটনায় তিনি প্রশংসিত হচ্ছেন।
গত ৩ জুলাই কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদুল হাসানের সার্বিক নির্দেশনায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এহেছানকে গ্রেফতার করে এসআই তানভীর। পুলিশ সূত্র জানায়, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি প্রধান আসামি ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন।
জানা গেছে, এসআই তানভীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কক্সবাজার সদরে বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। তার নেতৃত্বে একাধিক ওয়ারেন্টভুক্ত, পলাতক ও বিভিন্ন মামলার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন সময়ে পুরস্কৃতও হয়েছেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, বাদী ইকবাল হাসান কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত দৈনিক রূপালী সৈকত’র সহ-সম্পাদক এবং জাতীয় দৈনিক মুক্ত খবর’র সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার। তার তত্ত্বাবধানে থাকা একটি সিএনজি অটোরিকশা ব্যবহার করে প্রধান আসামি এহেছান অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে জানতে পেরে তাকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। এর জের ধরে গত ২৯ মে সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া মকবুল সওদাগরপাড়ার একটি চায়ের দোকানে এহেছান ও তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন তাকে ঘিরে হামলা চালায়।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে। প্রধান আসামি তার পিঠে কামড় দিয়ে গুরুতর জখম করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নগদ ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া, একটি পাওয়ার ব্যাংক ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে মাঠে নামে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে অবশেষে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদুল হাসান বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজার সদর সার্কেলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে। সাংবাদিক ইকবাল হাসানের ওপর হামলার ঘটনাকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদেরও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, এসআই তানভীরসহ সদর মডেল থানার কর্মকর্তারা পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। অপরাধ দমনে তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিচ্ছে। আইন সবার জন্য সমান-কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, এসআই তানভীরের মতো চৌকস ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা পুলিশের জন্য গর্ব। তিনি নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। অপরাধ দমনে তার ভূমিকা প্রশংসনীয়।
স্থানীয়রা বলছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান, পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অগ্রগতি কক্সবাজার সদর মডেল থানার আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ভবিষ্যতেও একই ধারাবাহিকতায় অপরাধ দমনে পুলিশ আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ