ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক বাংলাদেশ

তিন মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা জরিমানা, দুই অভিযানে উদ্ধার ২ হাজার ৯০০ ইয়াবা

মহাসড়কে অবৈধ পরিবহন ও চাঁদাবাজি বন্ধে নিরলস কাজ করছেন ওসি সুকান্ত চক্রবর্তী



মহাসড়কে অবৈধ পরিবহন ও চাঁদাবাজি বন্ধে নিরলস কাজ করছেন ওসি সুকান্ত চক্রবর্তী
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, পর্যটকবাহী যানবাহন এবং পণ্য পরিবহনকারী যান এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। একসময় অবৈধ পরিবহন, ঝুঁকিপূর্ণ থ্রি-হুইলার, চাঁদাবাজি, বেপরোয়া যান চলাচল এবং মাদক পাচারের কারণে এই মহাসড়ক নিয়ে ছিল নানা অভিযোগ। তবে সম্প্রতি এসব অনিয়ম দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রামু ক্রসিং হাইওয়ে থানা।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকান্ত চক্রবর্তীর নেতৃত্বে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযান, নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট এবং আইন প্রয়োগের কারণে মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, চালক ও স্থানীয়রা। আগের তুলনায় মহাসড়কে আইন প্রয়োগের দৃশ্যমান উপস্থিতি বেড়েছে, ফলে চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল, মে ও জুন তিন মাসে ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে দায়ী যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অতিরিক্ত গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত স্থানে যাত্রী ওঠানামা, লাইসেন্সবিহীন চালক এবং অন্যান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

শুধু ট্রাফিক আইন প্রয়োগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি রামু ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশ। একই সময়ে মাদক পাচার রোধেও পরিচালিত হয়েছে একাধিক বিশেষ অভিযান। পুলিশ জানায়, দুটি পৃথক অভিযানে মোট ২ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে এক অভিযানে ২ হাজার পিস এবং অন্য অভিযানে ৯০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় একজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, মহাসড়ক ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের চেষ্টা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

রামু ক্রসিং হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে। অবৈধ থ্রি-হুইলার, ব্যাটারিচালিত ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন এবং মহাসড়কের জন্য অনুপযোগী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীবাহী বাসে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, পণ্যবাহী যানবাহনে অনিয়ম, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল এবং সড়কে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের সচেতন করতেও কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণ, চালকদের সঙ্গে মতবিনিময়, নিরাপদ গতিতে গাড়ি চালানো, নির্ধারিত স্থানে যাত্রী ওঠানামা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঈদ, সরকারি ছুটি ও পর্যটন মৌসুমে যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পরিবহনসংশ্লিষ্ট কয়েকজন চালক ও শ্রমিক জানান, নিয়মিত অভিযান ও তদারকির কারণে মহাসড়কে আগের তুলনায় অনেক বেশি শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। অবৈধ চাঁদাবাজির অভিযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পুলিশি নজরদারি বাড়ায় এখন অনেক চালক বাধ্য হয়ে ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি যাত্রীদের মধ্যেও নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও যাত্রীও বলেন, মহাসড়কে নিয়মিত হাইওয়ে পুলিশের টহল এবং তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। এতে যানবাহনের চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরছে এবং অপরাধপ্রবণতাও কমছে। তারা এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে রামু ক্রসিং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকান্ত চক্রবর্তী বলেন, মহাসড়কে কোনো ধরনের অবৈধ পরিবহন, চাঁদাবাজি কিংবা আইন অমান্যের সুযোগ নেই। নিরাপদ ও শৃঙ্খল সড়ক নিশ্চিত করতে আমাদের অভিযান নিয়মিত চলবে। মাদক পাচার, বেপরোয়া যান চলাচল, অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে শুধু পুলিশের একার প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। পরিবহন মালিক, শ্রমিক, চালক, যাত্রী এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাই আইন মেনে চললে দুর্ঘটনা যেমন কমবে, তেমনি চাঁদাবাজি, মাদক পরিবহন ও অন্যান্য অপরাধও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। রামু ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশ ভবিষ্যতেও একই ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব পালন করবে।

দৈনিক বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬


মহাসড়কে অবৈধ পরিবহন ও চাঁদাবাজি বন্ধে নিরলস কাজ করছেন ওসি সুকান্ত চক্রবর্তী

প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, পর্যটকবাহী যানবাহন এবং পণ্য পরিবহনকারী যান এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। একসময় অবৈধ পরিবহন, ঝুঁকিপূর্ণ থ্রি-হুইলার, চাঁদাবাজি, বেপরোয়া যান চলাচল এবং মাদক পাচারের কারণে এই মহাসড়ক নিয়ে ছিল নানা অভিযোগ। তবে সম্প্রতি এসব অনিয়ম দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রামু ক্রসিং হাইওয়ে থানা।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকান্ত চক্রবর্তীর নেতৃত্বে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযান, নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট এবং আইন প্রয়োগের কারণে মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, চালক ও স্থানীয়রা। আগের তুলনায় মহাসড়কে আইন প্রয়োগের দৃশ্যমান উপস্থিতি বেড়েছে, ফলে চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল, মে ও জুন তিন মাসে ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে দায়ী যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অতিরিক্ত গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত স্থানে যাত্রী ওঠানামা, লাইসেন্সবিহীন চালক এবং অন্যান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

শুধু ট্রাফিক আইন প্রয়োগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি রামু ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশ। একই সময়ে মাদক পাচার রোধেও পরিচালিত হয়েছে একাধিক বিশেষ অভিযান। পুলিশ জানায়, দুটি পৃথক অভিযানে মোট ২ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে এক অভিযানে ২ হাজার পিস এবং অন্য অভিযানে ৯০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় একজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, মহাসড়ক ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের চেষ্টা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

রামু ক্রসিং হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে। অবৈধ থ্রি-হুইলার, ব্যাটারিচালিত ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন এবং মহাসড়কের জন্য অনুপযোগী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীবাহী বাসে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, পণ্যবাহী যানবাহনে অনিয়ম, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল এবং সড়কে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের সচেতন করতেও কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণ, চালকদের সঙ্গে মতবিনিময়, নিরাপদ গতিতে গাড়ি চালানো, নির্ধারিত স্থানে যাত্রী ওঠানামা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঈদ, সরকারি ছুটি ও পর্যটন মৌসুমে যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পরিবহনসংশ্লিষ্ট কয়েকজন চালক ও শ্রমিক জানান, নিয়মিত অভিযান ও তদারকির কারণে মহাসড়কে আগের তুলনায় অনেক বেশি শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। অবৈধ চাঁদাবাজির অভিযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পুলিশি নজরদারি বাড়ায় এখন অনেক চালক বাধ্য হয়ে ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি যাত্রীদের মধ্যেও নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও যাত্রীও বলেন, মহাসড়কে নিয়মিত হাইওয়ে পুলিশের টহল এবং তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। এতে যানবাহনের চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরছে এবং অপরাধপ্রবণতাও কমছে। তারা এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে রামু ক্রসিং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকান্ত চক্রবর্তী বলেন, মহাসড়কে কোনো ধরনের অবৈধ পরিবহন, চাঁদাবাজি কিংবা আইন অমান্যের সুযোগ নেই। নিরাপদ ও শৃঙ্খল সড়ক নিশ্চিত করতে আমাদের অভিযান নিয়মিত চলবে। মাদক পাচার, বেপরোয়া যান চলাচল, অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে শুধু পুলিশের একার প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। পরিবহন মালিক, শ্রমিক, চালক, যাত্রী এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাই আইন মেনে চললে দুর্ঘটনা যেমন কমবে, তেমনি চাঁদাবাজি, মাদক পরিবহন ও অন্যান্য অপরাধও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। রামু ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশ ভবিষ্যতেও একই ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব পালন করবে।

দৈনিক বাংলাদেশ


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ