ঢাকা    সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক বাংলাদেশ

টংকাবতীতে প্রকৃতির বিনাশ: প্রভাবের দাপট ভেঙে দিয়েছে বন বিভাগ


মাইনউদ্দীন
মাইনউদ্দীন
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

টংকাবতীতে প্রকৃতির বিনাশ: প্রভাবের দাপট ভেঙে দিয়েছে বন বিভাগ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় প্রভাবশালী মাটিখেকো চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে বন বিভাগ। বান্দরবান জেলার টংকাবতী ইউনিয়নে নিয়মিত টহল জোরদারের পাশাপাশি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি মাটি ভর্তি ডাম্প ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।​জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) দুপুর আনুমানিক ২ ঘটিকার সময় টংকাবতী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের চাঁন্দের পাড়া এলাকায় বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন পাহাড়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। স্থানীয় চিহ্নিত পাহাড় ও মাটিখেকো মোহাম্মদ আজিজ (পিতা: আব্দুল হাই)—এর নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সরকারি পাহাড় কেটে মাটির ব্যবসা চালানো হচ্ছিল। প্রভাবশালী এই চক্রটি শুধু দিনেই নয়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে এবং গভীর রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে পাহাড় কাটছিল। মো. আজিজের দাপটে এলাকার সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।​ঘটনার দিন গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে পাহাড় কাটা বন্ধে তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জ। রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াদুর রহমান ভূইয়ার নেতৃত্বে অভিযানে উপস্থিত ছিলেন হাংগর বিট কর্মকর্তা এ কে এম আবু সাঈদ, টংকাবতী বিট কর্মকর্তা ইমন বিল্লাহ সহ পদুয়া, হাংগর ও টংকাবতী বিটের কর্মচারীবৃন্দ। বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে পাহাড়খেকো চক্রের মূল হোতা আজিজ ও তার সহযোগীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মাটি ভর্তি একটি ডাম্প ট্রাক জব্দ করে নিজস্ব বিশেষ ব্যবস্থায় পদুয়া রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।

​এ বিষয়ে পদুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াদুর রহমান ভূইয়া কড়া হুশিয়ারি দিয়ে জানান, “পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সরকারি বনভূমির পাহাড় কাটা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। বৃষ্টি কিংবা রাতের আধারে ছদ্মবেশে পাহাড় কাটার দিন শেষ। অভিযুক্ত মোহাম্মদ আজিজসহ এই অবৈধ পাহাড় কাটার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে। সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং বনভূমি দখলমুক্ত রাখতে আমাদের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

​বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত ডাম্প ট্রাক এবং পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

দৈনিক বাংলাদেশ

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


টংকাবতীতে প্রকৃতির বিনাশ: প্রভাবের দাপট ভেঙে দিয়েছে বন বিভাগ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় প্রভাবশালী মাটিখেকো চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে বন বিভাগ। বান্দরবান জেলার টংকাবতী ইউনিয়নে নিয়মিত টহল জোরদারের পাশাপাশি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি মাটি ভর্তি ডাম্প ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।​জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) দুপুর আনুমানিক ২ ঘটিকার সময় টংকাবতী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের চাঁন্দের পাড়া এলাকায় বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন পাহাড়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। স্থানীয় চিহ্নিত পাহাড় ও মাটিখেকো মোহাম্মদ আজিজ (পিতা: আব্দুল হাই)—এর নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সরকারি পাহাড় কেটে মাটির ব্যবসা চালানো হচ্ছিল। প্রভাবশালী এই চক্রটি শুধু দিনেই নয়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে এবং গভীর রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে পাহাড় কাটছিল। মো. আজিজের দাপটে এলাকার সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।​ঘটনার দিন গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে পাহাড় কাটা বন্ধে তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জ। রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াদুর রহমান ভূইয়ার নেতৃত্বে অভিযানে উপস্থিত ছিলেন হাংগর বিট কর্মকর্তা এ কে এম আবু সাঈদ, টংকাবতী বিট কর্মকর্তা ইমন বিল্লাহ সহ পদুয়া, হাংগর ও টংকাবতী বিটের কর্মচারীবৃন্দ। বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে পাহাড়খেকো চক্রের মূল হোতা আজিজ ও তার সহযোগীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মাটি ভর্তি একটি ডাম্প ট্রাক জব্দ করে নিজস্ব বিশেষ ব্যবস্থায় পদুয়া রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।

​এ বিষয়ে পদুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াদুর রহমান ভূইয়া কড়া হুশিয়ারি দিয়ে জানান, “পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সরকারি বনভূমির পাহাড় কাটা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। বৃষ্টি কিংবা রাতের আধারে ছদ্মবেশে পাহাড় কাটার দিন শেষ। অভিযুক্ত মোহাম্মদ আজিজসহ এই অবৈধ পাহাড় কাটার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে। সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং বনভূমি দখলমুক্ত রাখতে আমাদের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

​বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত ডাম্প ট্রাক এবং পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


দৈনিক বাংলাদেশ


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ