বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
এসআরবি-১৫-এর অভিযানে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার, যাবজ্জীবন ও ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্তসহ গ্রেপ্তার ৩
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬
কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া ও রামুতে পৃথক অভিযান চালিয়ে সশস্ত্র ডাকাত দল ‘রফিক বাহিনী’র এক সক্রিয় সদস্যসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি-১৫)। গ্রেপ্তার অন্য দুজনের মধ্যে একজন মাদক মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং অপরজন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।
অভিযানে দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, ধারালো অস্ত্র ও একটি স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
টেকনাফে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার
এসআরবি-১৫-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১টা ৫ মিনিটে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মহেশখালীয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সশস্ত্র ডাকাত দল ‘রফিক বাহিনী’র সক্রিয় সদস্য শেখ বিজয় (২৩)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানকালে তাঁর হেফাজত থেকে একটি একনলা দেশীয় বন্দুক, দুটি ওয়ান শুটার এলজি, ১৭ রাউন্ড গোলাবারুদ, ২৭ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ছয়টি ধারালো ছোরা ও একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার শেখ বিজয় টেকনাফের খারাংখালী এলাকার পূর্ব মহেশখালীয়াপাড়ার বাসিন্দা। তিনি শাহ আলম ও জহুরা বেগমের ছেলে। পরে তাঁকে উদ্ধার করা আলামতসহ টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
উখিয়ায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
এর আগে ২৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৯টায় উখিয়ার উত্তর সোনারপাড়ার মঙ্গেরটেক এলাকায় এলিট লাইভ ফিস রেস্টুরেন্টের সামনে অভিযান চালিয়ে মো. আবুল কালাম (৫২) নামের এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-১৫-এর সিপিএসসি ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল।
আবুল কালাম উখিয়ার সোনারপাড়া এলাকার হাজী বশির উল্লাহর ছেলে। এসআরবি-১৫-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বংশাল থানায় দায়ের করা মাদক মামলায় আদালত তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। অভিযানে তাঁর কাছ থেকে একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।
পরে তাঁকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরোয়ানামূলে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
রামুতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে রামু ফুটবল চত্বরসংলগ্ন ইউনিক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে অভিযান চালিয়ে মো. আবু বক্কর (৪৮) নামের আরেক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-১৫-এর সদর ব্যাটালিয়ন।
আবু বক্কর কক্সবাজার সদর থানার উত্তর রুমালিয়ার ছড়ার বাসিন্দা। তিনি মোহাম্মদ আলমের ছেলে। কক্সবাজার সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর থেকে তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন বলে এসআরবি-১৫ জানিয়েছে।
পরে তাঁকে পরোয়ানামূলে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এসআরবি-১৫ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, অপরাধ দমন এবং সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ