বাংলা থ্রিলার সাহিত্যে মানুষের মনের অবচেতন স্তর, বিশ্বাস এবং ভয়ের এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব নিয়ে হাজির হয়েছে উদীয়মান লেখিকা ইসমাম জাহান-এর নতুন উপন্যাস ‘বকুল ফুলের বিষ’। প্রকাশ করেছে নবকথন প্রকাশনী। সাধারণ একটি দাম্পত্য জীবনের চেনা পরিধির ভেতরে কীভাবে একটি অচেনা ও ভয়ংকর ছায়া দীর্ঘ হতে পারে, তারই এক রোমাঞ্চকর ও নিখুঁত চিত্রায়ন তুলে ধরা হয়েছে এই উপন্যাসে।
গল্পের শুরু এক ভীতিপ্রদ রাতের পটভূমিতে। রাত তিনটে যখন পুরো শহরটা নির্জীব তিমিমাছের মতো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই এক বিষাক্ত অস্বস্তি নিয়ে ঘুম ভেঙে যায় বকুলের। পাশে তাকিয়ে দেখে বিছানা খালি, হেমন্ত নেই। অন্ধকার করিডোর পেরিয়ে রান্নাঘরে এগোতেই দৃশ্যটা দেখে বকুলের পা যেন বরফ হয়ে যায়। ফ্রিজের নীলচে আলোয় দাঁড়িয়ে আছে শহরের নামজাদা নিউরোসার্জন হেমন্ত, যাকে বকুল নিজের অস্তিত্বের চেয়েও বেশি ভালোবাসে। কিন্তু হেমন্তের মসৃণ হাত দুটো আজ কাঁচা মাংসে ভরা, তা থেকে টপটপ করে ঝরে পড়ছে তাজা রক্ত! আর এক আদিম হিংস্রতায় সে তা চিবিয়ে খাচ্ছে।
পরদিন সকালে সেই হেমন্তই বকুলের কপালে পরম ভালোবাসায় হাত বুলিয়ে দেয়। কিন্তু তার মিষ্টি কথার আড়ালে ভেসে আসে এক বিদঘুটে আঁশটে গন্ধ জমাট বাঁধা রক্তের গন্ধ! এই দ্বিমুখী পরিস্থিতি বকুলকে এক চরম মানসিক সংকটে ফেলে দেয়। প্রশ্ন জাগে সত্যিই কি ওটা নিছক কোনো দুঃস্বপ্ন ছিল, নাকি হেমন্তের ভেতরে বাসা বেঁধেছে কোনো ভয়াল হিংস্র সত্তা?
ভালোবাসা এবং ভয় যখন একই বিন্দুতে এসে মেলে, তখন মানুষের মানসিক অবস্থা কেমন হতে পারে, তার এক গভীর ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ রয়েছে এই উপন্যাসে। লেখকের মুনশিয়ানায় প্রতিটি পাতায় পাঠক এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক গোলকধাঁধায় আটকে যাবেন।
মানুষের মনের অতল ঘূর্ণিতে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার রহস্য আর ছায়াবৃত সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখতে চাইলে থ্রিলারপ্রেমীদের সংগ্রহে রাখার মতো একটি বই ‘বকুল ফুলের বিষ’। এটি শুধু একটি সাধারণ রহস্য উপন্যাস নয়, বরং মানবমনস্তত্ত্বের এক গভীর অনুসন্ধান।

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬
বাংলা থ্রিলার সাহিত্যে মানুষের মনের অবচেতন স্তর, বিশ্বাস এবং ভয়ের এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব নিয়ে হাজির হয়েছে উদীয়মান লেখিকা ইসমাম জাহান-এর নতুন উপন্যাস ‘বকুল ফুলের বিষ’। প্রকাশ করেছে নবকথন প্রকাশনী। সাধারণ একটি দাম্পত্য জীবনের চেনা পরিধির ভেতরে কীভাবে একটি অচেনা ও ভয়ংকর ছায়া দীর্ঘ হতে পারে, তারই এক রোমাঞ্চকর ও নিখুঁত চিত্রায়ন তুলে ধরা হয়েছে এই উপন্যাসে।
গল্পের শুরু এক ভীতিপ্রদ রাতের পটভূমিতে। রাত তিনটে যখন পুরো শহরটা নির্জীব তিমিমাছের মতো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই এক বিষাক্ত অস্বস্তি নিয়ে ঘুম ভেঙে যায় বকুলের। পাশে তাকিয়ে দেখে বিছানা খালি, হেমন্ত নেই। অন্ধকার করিডোর পেরিয়ে রান্নাঘরে এগোতেই দৃশ্যটা দেখে বকুলের পা যেন বরফ হয়ে যায়। ফ্রিজের নীলচে আলোয় দাঁড়িয়ে আছে শহরের নামজাদা নিউরোসার্জন হেমন্ত, যাকে বকুল নিজের অস্তিত্বের চেয়েও বেশি ভালোবাসে। কিন্তু হেমন্তের মসৃণ হাত দুটো আজ কাঁচা মাংসে ভরা, তা থেকে টপটপ করে ঝরে পড়ছে তাজা রক্ত! আর এক আদিম হিংস্রতায় সে তা চিবিয়ে খাচ্ছে।
পরদিন সকালে সেই হেমন্তই বকুলের কপালে পরম ভালোবাসায় হাত বুলিয়ে দেয়। কিন্তু তার মিষ্টি কথার আড়ালে ভেসে আসে এক বিদঘুটে আঁশটে গন্ধ জমাট বাঁধা রক্তের গন্ধ! এই দ্বিমুখী পরিস্থিতি বকুলকে এক চরম মানসিক সংকটে ফেলে দেয়। প্রশ্ন জাগে সত্যিই কি ওটা নিছক কোনো দুঃস্বপ্ন ছিল, নাকি হেমন্তের ভেতরে বাসা বেঁধেছে কোনো ভয়াল হিংস্র সত্তা?
ভালোবাসা এবং ভয় যখন একই বিন্দুতে এসে মেলে, তখন মানুষের মানসিক অবস্থা কেমন হতে পারে, তার এক গভীর ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ রয়েছে এই উপন্যাসে। লেখকের মুনশিয়ানায় প্রতিটি পাতায় পাঠক এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক গোলকধাঁধায় আটকে যাবেন।
মানুষের মনের অতল ঘূর্ণিতে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার রহস্য আর ছায়াবৃত সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখতে চাইলে থ্রিলারপ্রেমীদের সংগ্রহে রাখার মতো একটি বই ‘বকুল ফুলের বিষ’। এটি শুধু একটি সাধারণ রহস্য উপন্যাস নয়, বরং মানবমনস্তত্ত্বের এক গভীর অনুসন্ধান।
