শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
রামুতে অপরাধ দমনে ব্যস্ত এসআই আনোয়ার, এক মাসে ২৮ হাজার ইয়াবা উদ্ধারসহ নানা সাফল্য
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
কক্সবাজারের রামু থানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অক্টোবর মাসজুড়ে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ আনোয়ার। ওয়ারেন্ট তামিল, মাদকবিরোধী অভিযান, ডাকাত ও পলাতক আসামি গ্রেপ্তার, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা নিশ্চিত করা এবং মামলা নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর তৎপরতা ছিল উল্লেখযোগ্য।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, অক্টোবর মাসে এসআই মোঃ আনোয়ার মোট ৯০টি ওয়ারেন্ট তামিল করেছেন। এর মধ্যে ১০টি সাজা ওয়ারেন্ট এবং একটি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির ওয়ারেন্ট রয়েছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদানের ব্যবস্থা করেন তিনি। বিশেষ করে মাদকাসক্ত অবস্থায় মা-বাবাকে মারধরের মতো ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেও ভূমিকা রাখেন।
মাদকবিরোধী অভিযানে তাঁর কার্যক্রমও ছিল উল্লেখযোগ্য। অক্টোবর মাসে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে ২৮ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২৫০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে ২৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এ ছাড়া ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এসআই আনোয়ার। ঈদগাঁও এলাকায় সাম্প্রতিক ডাকাতির ঘটনায় জড়িত বলে অভিযুক্ত এবং নিয়মিত মামলার পলাতক আসামি জাফরকে রামুর রশিদনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ঈদগাঁও পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন তিনি। ওমখালী এলাকা থেকেও ডাকাতির মামলার আসামি জাফরকে গ্রেপ্তারের তথ্য তাঁর কার্যক্রমের বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে সন্দেহভাজন ব্যক্তি, জুয়াড়ি, অনলাইন জুয়ায় জড়িত ব্যক্তি ও চুরির ঘটনায় জড়িতসহ বিভিন্ন অপরাধে সংশ্লিষ্ট মোট ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানোর কার্যক্রমও পরিচালনা করেন তিনি। তাঁদের মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিও রয়েছেন।
মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন এসআই মোঃ আনোয়ার। অক্টোবর মাসে জিআর ও সিআর মিলিয়ে মোট ১৫টি মামলা নিষ্পত্তি করেন। পাশাপাশি ঢাকার আশুলিয়া থানা এলাকা থেকে ভিকটিম উদ্ধার এবং ২০টি মামলার আসামি গ্রেপ্তারের কার্যক্রমেও অংশ নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন অভিযোগ ও স্থানীয় সমস্যার সমাধানে আইনগত ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
সব মিলিয়ে অক্টোবর মাসে ওয়ারেন্ট তামিল, মাদক উদ্ধার, অপরাধী গ্রেপ্তার, ভিকটিম উদ্ধার ও মামলা নিষ্পত্তিসহ বহুমুখী কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন রামু থানার এসআই মোঃ আনোয়ার। তাঁর এসব কার্যক্রম রামু এলাকায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের নিয়মিত তৎপরতার একটি চিত্র তুলে ধরেছে।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে ফজলুল হক বলেন, রামু এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও অপরাধ নির্মূল এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সদস্যরা পেশাদারিত্ব, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছেন। এসআই মোঃ আনোয়ারসহ থানার প্রতিটি সদস্য অপরাধ দমনে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপরাধী যে-ই হোক, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ