ঢাকা    রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক বাংলাদেশ

টেকনাফে ১০ হাজার ইয়াবা ও ঈদগাঁওয়ে ৭৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার

মাদকের চালানসহ র‍্যাবের জালে ৩ কারবারি



মাদকের চালানসহ র‍্যাবের জালে ৩ কারবারি

কক্সবাজারে মাদকের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১৫। টেকনাফে নিজ বসতঘর থেকে ১০ হাজার পিস কথিত ইয়াবাসহ এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং ঈদগাঁওয়ে প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ৭৬ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-১৫ সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই ২০২৬ বিকেল ৫টার দিকে টেকনাফের ঝর্ণা চত্বর বাজার এলাকায় অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৫, সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প)-এর একটি আভিযানিক দল জানতে পারে, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দরগাছড়া এলাকায় এক মাদক ব্যবসায়ী তার নিজ বসতঘরে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত করে রেখেছে।

সংবাদের সত্যতা যাচাই করে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে র‌্যাবের দলটি দরগাছড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে মোহাম্মদ তাহের (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে তার নিজ বসতঘর থেকে আটক করা হয়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাহের ঘরের ভেতর খাটের নিচে মাদক থাকার কথা স্বীকার করে বলে র‌্যাব জানায়। তার দেখানো মতে খাটের নিচ থেকে ১০ হাজার পিস কথিত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

আটক মোহাম্মদ তাহের টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দরগাছড়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শেখ আহম্মেদের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

অন্যদিকে, একই দিন দুপুরে কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মেহেরঘোনা এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে একটি সাদা সেডান প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ৭৬ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে র‌্যাব-১৫। এ ঘটনায় নজির আহাম্মেদ (৪৪) ও মো. রিয়াজুল বখতিয়ার (৪৮) নামে দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।

র‌্যাব জানায়, চট্টগ্রাম থেকে প্রাইভেটকারযোগে মাদকের একটি বড় চালান কক্সবাজারের দিকে আসছেএমন তথ্যের ভিত্তিতে মেহেরঘোনা এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে সন্দেহভাজন সাদা সেডান গাড়িটি থামিয়ে চালক ও যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা পরস্পরবিরোধী তথ্য দেন। তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দুটি ট্রলি ব্যাগের ভেতর বিশেষভাবে লুকানো ৭৬ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক নজির আহাম্মেদ টেকনাফ সদর ইউনিয়নের শীলবনিয়া পাড়ার বাসিন্দা। র‌্যাবের তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিদেশি নাগরিক আইনসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। মামলাগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী ও কক্সবাজারের বিভিন্ন থানায় দায়ের করা হয়েছে বলে জানায় র‌্যাব।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন স্বীকার করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে সাধারণ যাত্রীর বেশে ট্রলি ব্যাগের মাধ্যমে গাঁজার চালানটি পরিবহন করা হচ্ছিল।

দুটি পৃথক অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ও গাঁজা, প্রাইভেটকার ও মোবাইল ফোনসহ আটক তিনজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। টেকনাফের আসামিকে টেকনাফ মডেল থানা এবং ঈদগাঁওয়ের দুই আসামিকে ঈদগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব-১৫ জানিয়েছে, কক্সবাজারকে মাদকমুক্ত রাখতে মাদক কারবারি ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

দৈনিক বাংলাদেশ

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


মাদকের চালানসহ র‍্যাবের জালে ৩ কারবারি

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারে মাদকের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১৫। টেকনাফে নিজ বসতঘর থেকে ১০ হাজার পিস কথিত ইয়াবাসহ এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং ঈদগাঁওয়ে প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ৭৬ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-১৫ সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই ২০২৬ বিকেল ৫টার দিকে টেকনাফের ঝর্ণা চত্বর বাজার এলাকায় অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৫, সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প)-এর একটি আভিযানিক দল জানতে পারে, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দরগাছড়া এলাকায় এক মাদক ব্যবসায়ী তার নিজ বসতঘরে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত করে রেখেছে।

সংবাদের সত্যতা যাচাই করে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে র‌্যাবের দলটি দরগাছড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে মোহাম্মদ তাহের (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে তার নিজ বসতঘর থেকে আটক করা হয়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাহের ঘরের ভেতর খাটের নিচে মাদক থাকার কথা স্বীকার করে বলে র‌্যাব জানায়। তার দেখানো মতে খাটের নিচ থেকে ১০ হাজার পিস কথিত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

আটক মোহাম্মদ তাহের টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দরগাছড়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শেখ আহম্মেদের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

অন্যদিকে, একই দিন দুপুরে কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মেহেরঘোনা এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে একটি সাদা সেডান প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ৭৬ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে র‌্যাব-১৫। এ ঘটনায় নজির আহাম্মেদ (৪৪) ও মো. রিয়াজুল বখতিয়ার (৪৮) নামে দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।

র‌্যাব জানায়, চট্টগ্রাম থেকে প্রাইভেটকারযোগে মাদকের একটি বড় চালান কক্সবাজারের দিকে আসছেএমন তথ্যের ভিত্তিতে মেহেরঘোনা এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে সন্দেহভাজন সাদা সেডান গাড়িটি থামিয়ে চালক ও যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা পরস্পরবিরোধী তথ্য দেন। তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দুটি ট্রলি ব্যাগের ভেতর বিশেষভাবে লুকানো ৭৬ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক নজির আহাম্মেদ টেকনাফ সদর ইউনিয়নের শীলবনিয়া পাড়ার বাসিন্দা। র‌্যাবের তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিদেশি নাগরিক আইনসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। মামলাগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী ও কক্সবাজারের বিভিন্ন থানায় দায়ের করা হয়েছে বলে জানায় র‌্যাব।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন স্বীকার করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে সাধারণ যাত্রীর বেশে ট্রলি ব্যাগের মাধ্যমে গাঁজার চালানটি পরিবহন করা হচ্ছিল।

দুটি পৃথক অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ও গাঁজা, প্রাইভেটকার ও মোবাইল ফোনসহ আটক তিনজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। টেকনাফের আসামিকে টেকনাফ মডেল থানা এবং ঈদগাঁওয়ের দুই আসামিকে ঈদগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব-১৫ জানিয়েছে, কক্সবাজারকে মাদকমুক্ত রাখতে মাদক কারবারি ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।





দৈনিক বাংলাদেশ


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ