ঢাকা    রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক বাংলাদেশ

খুরুশকুলে জমি নিয়ে বিরোধ, দফায় দফায় হয়রানির অভিযোগ আমির সুলতানের



খুরুশকুলে জমি নিয়ে বিরোধ, দফায় দফায় হয়রানির অভিযোগ আমির সুলতানের
অভিযোগ আমির সুলতানের
কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের কাউয়ারপাড়া এলাকায় পৈতৃক জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ, দখলচেষ্টা ও দফায় দফায় হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন আমির সুলতান। এ ঘটনায় জমির দলিল ও ভূমি রেকর্ড যাচাই করে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে আমির সুলতান দাবি করেন, তাঁর বাবা মরহুম বদরুদ্দোজা ১৯৯০ সালে দুই ব্যক্তির ওয়ারিশদের কাছ থেকে মোট ৮০ শতক জমি ক্রয় করেন। এর মধ্যে মকবুল আহমদের ওয়ারিশ ওবায়দুর রহমানের কাছ থেকে ৪০ শতক এবং অলি আহমদের ওয়ারিশ হালিমা বেগমের কাছ থেকে আরও ৪০ শতক জমি কেনা হয়। এরপর থেকে তাঁদের পরিবার ওই জমি ভোগদখল করে আসছে বলে দাবি তাঁর।

আমির সুলতানের অভিযোগ, মোর্শেদুর রহমান খোকন ২০১৫ সালে অন্য ওয়ারিশের কাছ থেকে ৪০ শতক জমি ক্রয় করেন। তবে নিজের কেনা জমি ভোগদখলে থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁর বাবার ক্রয় করা পৃথক ৪০ শতক জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করছেন। এ ক্ষেত্রে খোকনের উপস্থাপিত খতিয়ান ও জমির মালিকানাসংক্রান্ত কাগজপত্রের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আমির সুলতান আরও দাবি করেন, পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষার দাবিতে পরিবার ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করার পর তাঁর বিরুদ্ধে থানা ও বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের মাধ্যমে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।

তাঁর ভাষ্য, জমিসংক্রান্ত বিরোধে কক্সবাজার সদর থানার একজন তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত করেছেন এবং কাগজপত্র যাচাই করেছেন। তবে তদন্তের ফলাফল সম্পর্কে কোনো লিখিত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করা যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আমির সুলতান বলেন, তাঁদের কাছে জমি ক্রয়ের দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। অপর পক্ষেরও বৈধ দলিল বা মালিকানার প্রমাণ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ভূমি কর্তৃপক্ষ কিংবা আইনগত প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা উচিত। প্রয়োজনে সদর থানা, জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আইনজীবীদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই করে আলোচনায় বসতে তাঁরা প্রস্তুত।

তিনি বলেন, “আমরা বিরোধ চাই না। জমির মালিকানা নির্ধারণ হোক বৈধ দলিল, ভূমি রেকর্ড ও নিরপেক্ষ তদন্তের ভিত্তিতে। কাগজপত্র যাচাই করে আইন অনুযায়ী যে সিদ্ধান্ত হবে, আমরা তা মেনে নিতে প্রস্তুত। তবে অযথা ভয়ভীতি বা হয়রানি কাম্য নয়।”

সংবাদ সম্মেলনে একই এলাকার সেলিমের জমি নিয়েও অভিযোগ তোলেন আমির সুলতান। তাঁর দাবি, সেলিম কয়েক বছর আগে মোর্শেদুর রহমান খোকনের কাছে ৪০ শতক জমি বিক্রি করেন। পরে ৬০ শতক জমি দখল করা হয়েছে বলে সেলিম অভিযোগ করেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠিত একটি সামাজিক বৈঠকে অতিরিক্ত ২০ শতক জমি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। এ ঘটনারও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন আমির সুলতান।

পৈতৃক জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি, দখলচেষ্টার অভিযোগ তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

আমির সুলতান বলেন, পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনে আদালতের শরণাপন্ন হবেন এবং আইনসম্মতভাবে লড়াই চালিয়ে যাবেন। ন্যায়বিচার না পেলে পরবর্তী সময়ে মানববন্ধন ও আমরণ অনশনের মতো কর্মসূচি পালনের বিষয়টিও বিবেচনা করবেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, মোর্শেদুর রহমান খোকন তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। একটি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “মানববন্ধনে আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে। আমার কাছে ক্রয়সূত্রে জমির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে।”

জমির প্রকৃত মালিকানা, খতিয়ানের বৈধতা এবং উভয় পক্ষের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিল, ভূমি রেকর্ড ও প্রশাসনিক নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিরোধের আইনসম্মত নিষ্পত্তিই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

দৈনিক বাংলাদেশ

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


খুরুশকুলে জমি নিয়ে বিরোধ, দফায় দফায় হয়রানির অভিযোগ আমির সুলতানের

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের কাউয়ারপাড়া এলাকায় পৈতৃক জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ, দখলচেষ্টা ও দফায় দফায় হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন আমির সুলতান। এ ঘটনায় জমির দলিল ও ভূমি রেকর্ড যাচাই করে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে আমির সুলতান দাবি করেন, তাঁর বাবা মরহুম বদরুদ্দোজা ১৯৯০ সালে দুই ব্যক্তির ওয়ারিশদের কাছ থেকে মোট ৮০ শতক জমি ক্রয় করেন। এর মধ্যে মকবুল আহমদের ওয়ারিশ ওবায়দুর রহমানের কাছ থেকে ৪০ শতক এবং অলি আহমদের ওয়ারিশ হালিমা বেগমের কাছ থেকে আরও ৪০ শতক জমি কেনা হয়। এরপর থেকে তাঁদের পরিবার ওই জমি ভোগদখল করে আসছে বলে দাবি তাঁর।

আমির সুলতানের অভিযোগ, মোর্শেদুর রহমান খোকন ২০১৫ সালে অন্য ওয়ারিশের কাছ থেকে ৪০ শতক জমি ক্রয় করেন। তবে নিজের কেনা জমি ভোগদখলে থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁর বাবার ক্রয় করা পৃথক ৪০ শতক জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করছেন। এ ক্ষেত্রে খোকনের উপস্থাপিত খতিয়ান ও জমির মালিকানাসংক্রান্ত কাগজপত্রের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আমির সুলতান আরও দাবি করেন, পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষার দাবিতে পরিবার ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করার পর তাঁর বিরুদ্ধে থানা ও বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের মাধ্যমে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।

তাঁর ভাষ্য, জমিসংক্রান্ত বিরোধে কক্সবাজার সদর থানার একজন তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত করেছেন এবং কাগজপত্র যাচাই করেছেন। তবে তদন্তের ফলাফল সম্পর্কে কোনো লিখিত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করা যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আমির সুলতান বলেন, তাঁদের কাছে জমি ক্রয়ের দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। অপর পক্ষেরও বৈধ দলিল বা মালিকানার প্রমাণ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ভূমি কর্তৃপক্ষ কিংবা আইনগত প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা উচিত। প্রয়োজনে সদর থানা, জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আইনজীবীদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই করে আলোচনায় বসতে তাঁরা প্রস্তুত।

তিনি বলেন, “আমরা বিরোধ চাই না। জমির মালিকানা নির্ধারণ হোক বৈধ দলিল, ভূমি রেকর্ড ও নিরপেক্ষ তদন্তের ভিত্তিতে। কাগজপত্র যাচাই করে আইন অনুযায়ী যে সিদ্ধান্ত হবে, আমরা তা মেনে নিতে প্রস্তুত। তবে অযথা ভয়ভীতি বা হয়রানি কাম্য নয়।”

সংবাদ সম্মেলনে একই এলাকার সেলিমের জমি নিয়েও অভিযোগ তোলেন আমির সুলতান। তাঁর দাবি, সেলিম কয়েক বছর আগে মোর্শেদুর রহমান খোকনের কাছে ৪০ শতক জমি বিক্রি করেন। পরে ৬০ শতক জমি দখল করা হয়েছে বলে সেলিম অভিযোগ করেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠিত একটি সামাজিক বৈঠকে অতিরিক্ত ২০ শতক জমি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। এ ঘটনারও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন আমির সুলতান।

পৈতৃক জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি, দখলচেষ্টার অভিযোগ তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

আমির সুলতান বলেন, পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনে আদালতের শরণাপন্ন হবেন এবং আইনসম্মতভাবে লড়াই চালিয়ে যাবেন। ন্যায়বিচার না পেলে পরবর্তী সময়ে মানববন্ধন ও আমরণ অনশনের মতো কর্মসূচি পালনের বিষয়টিও বিবেচনা করবেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, মোর্শেদুর রহমান খোকন তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। একটি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “মানববন্ধনে আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে। আমার কাছে ক্রয়সূত্রে জমির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে।”

জমির প্রকৃত মালিকানা, খতিয়ানের বৈধতা এবং উভয় পক্ষের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিল, ভূমি রেকর্ড ও প্রশাসনিক নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিরোধের আইনসম্মত নিষ্পত্তিই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

দৈনিক বাংলাদেশ


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ