ঢাকা    শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক বাংলাদেশ

চোর-ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী

সদর মডেল থানার ধারাবাহিক অভিযানে ৫৯ দিনে গ্রেফতার ১ হাজার ৫৯ জন



সদর মডেল থানার ধারাবাহিক অভিযানে ৫৯ দিনে গ্রেফতার ১ হাজার ৫৯ জন
৫৯ দিনে গ্রেফতার ১ হাজার ৫৯ জন

কিশোর গ্যাংয়ের ১৯৬ সদস্য আটক

কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকায় অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। চুরি, ছিনতাই, মাদক কারবার, মাদক সেবন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসামি গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৫৯ দিনে বিভিন্ন অপরাধে মোট ১ হাজার ৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে চলমান বিশেষ অভিযানে আটক করা হয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের ১৯৬ সদস্যকে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলীর দায়িত্বকালে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত এসব অভিযানে চোর ও ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার, মাদকবিরোধী অভিযান এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। থানা পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫৯ দিনের অভিযানে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছেন চোর ও ছিনতাইকারী এবং মাদকসেবী।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৫৯ দিনে গ্রেপ্তার হওয়া ১ হাজার ৫৯ জনের মধ্যে ৩৬০ জন চোর ও ছিনতাইকারী, ৮৬ জন মাদক ব্যবসায়ী এবং ৩৪০ জন মাদকসেবী রয়েছেন। এ ছাড়া পেনাল কোডের ২৯০ ধারায় ৫২ জন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ১৮৪ জন এবং নিয়মিত মামলায় ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কক্সবাজার শহরের অপরাধপ্রবণ এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে ১৯৬ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়েছে। কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখা এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চুরি ও অন্যান্য অপরাধের ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চুরি-ছিনতাই ও মাদকবিরোধী অভিযানে গুরুত্ব : কক্সবাজার পর্যটননির্ভর শহর হওয়ায় এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল রয়েছে। বিশেষ করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাস টার্মিনাল, বাজার, আবাসিক এলাকা ও পর্যটনকেন্দ্রিক স্থানগুলোতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এমন বাস্তবতায় চোর ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চালাচ্ছে সদর মডেল থানা পুলিশ। একই সঙ্গে বিভিন্ন মামলার আসামি ও আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্যের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৫৯ দিনে ৩৬০ জন চোর ও ছিনতাইকারী এবং ৮৬ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৪০ জন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধের বিভিন্ন শ্রেণিতে এই গ্রেপ্তারের পাশাপাশি পরোয়ানাভুক্ত ১৮৪ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিকতা চান স্থানীয়রা : স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কক্সবাজার শহরে পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুরি, ছিনতাই, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন। শুধু গ্রেপ্তার নয়, অপরাধের সঙ্গে জড়িত চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করা এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোও জরুরি।

তাঁদের মতে, সদর মডেল থানা পুলিশের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকলে অপরাধপ্রবণতা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়াতে পুলিশের তৎপরতা ও জনসম্পৃক্ততা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

দৈনিক বাংলাদেশ

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


সদর মডেল থানার ধারাবাহিক অভিযানে ৫৯ দিনে গ্রেফতার ১ হাজার ৫৯ জন

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কিশোর গ্যাংয়ের ১৯৬ সদস্য আটক

কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকায় অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। চুরি, ছিনতাই, মাদক কারবার, মাদক সেবন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসামি গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৫৯ দিনে বিভিন্ন অপরাধে মোট ১ হাজার ৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে চলমান বিশেষ অভিযানে আটক করা হয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের ১৯৬ সদস্যকে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলীর দায়িত্বকালে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত এসব অভিযানে চোর ও ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার, মাদকবিরোধী অভিযান এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। থানা পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫৯ দিনের অভিযানে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছেন চোর ও ছিনতাইকারী এবং মাদকসেবী।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৫৯ দিনে গ্রেপ্তার হওয়া ১ হাজার ৫৯ জনের মধ্যে ৩৬০ জন চোর ও ছিনতাইকারী, ৮৬ জন মাদক ব্যবসায়ী এবং ৩৪০ জন মাদকসেবী রয়েছেন। এ ছাড়া পেনাল কোডের ২৯০ ধারায় ৫২ জন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ১৮৪ জন এবং নিয়মিত মামলায় ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কক্সবাজার শহরের অপরাধপ্রবণ এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে ১৯৬ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়েছে। কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখা এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চুরি ও অন্যান্য অপরাধের ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চুরি-ছিনতাই ও মাদকবিরোধী অভিযানে গুরুত্ব : কক্সবাজার পর্যটননির্ভর শহর হওয়ায় এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল রয়েছে। বিশেষ করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাস টার্মিনাল, বাজার, আবাসিক এলাকা ও পর্যটনকেন্দ্রিক স্থানগুলোতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এমন বাস্তবতায় চোর ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চালাচ্ছে সদর মডেল থানা পুলিশ। একই সঙ্গে বিভিন্ন মামলার আসামি ও আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্যের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৫৯ দিনে ৩৬০ জন চোর ও ছিনতাইকারী এবং ৮৬ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৪০ জন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধের বিভিন্ন শ্রেণিতে এই গ্রেপ্তারের পাশাপাশি পরোয়ানাভুক্ত ১৮৪ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিকতা চান স্থানীয়রা : স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কক্সবাজার শহরে পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুরি, ছিনতাই, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন। শুধু গ্রেপ্তার নয়, অপরাধের সঙ্গে জড়িত চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করা এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোও জরুরি।

তাঁদের মতে, সদর মডেল থানা পুলিশের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকলে অপরাধপ্রবণতা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়াতে পুলিশের তৎপরতা ও জনসম্পৃক্ততা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

দৈনিক বাংলাদেশ


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ