আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাংবাদিক পরিবারের বসতভিটা দখল
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী থানাধীন মির্জাপুর ইউনিয়নের নলপুখুরী গ্রামে এক সাংবাদিক পরিবারের বসতভিটা দখল ও উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিজীবী এক প্রকৌশলীর নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিবারের ওপর নির্যাতন ও হয়রানি চালানো হচ্ছে।
ভুক্তভোগী ফজলুর রহমানের পরিবার জানায়, তারা প্রায় এক বছর ধরে নিজেদের বসতভিটায় বসবাস করতে পারছে না। বর্তমানে বাধ্য হয়ে তারা আটোয়ারীতে ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফজলুর রহমানের আপন ভাতিজা চট্টগ্রামের চুয়েটে কর্মরত একজন প্রকৌশলী। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ও তার পরিবার ফজলুর রহমানের পরিবারকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করে দখল করে নিয়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের চাপ ও নির্যাতন চালিয়ে আসছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছর আগে ফজলুর রহমানের পৈত্রিক বসতভিটাসহ আবাদী জমি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রকৌশলীর বাবা মশির উদ্দিনের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ফজলুর রহমানের ক্রয়কৃত ৫.৫ শতাংশ জমিও জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ফজলুর রহমান একজন ক্ষুদ্র গরু ব্যবসায়ী। তার অভিযোগ, তার ব্যবসার প্রায় ৫ লাখ টাকা মকবুল গ্রুপ আত্মসাৎ করে তাকে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পরবর্তীতে তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সামাদ আজাদের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন। চেয়ারম্যান একাধিকবার উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠক করলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় তিনি ফজলুর রহমানের পক্ষে প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেন বলে জানা গেছে।
আইনের আশ্রয় নিয়ে ফজলুর রহমান বিজ্ঞ আমলী আদালত-৫, আটোয়ারীতে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১১৬/২০২৫)। মামলাটি দীর্ঘ প্রায় ৭ মাস ডিবি কার্যালয়ে তদন্তাধীন ছিল। পরবর্তীতে তিনি আদালতে আপিল করেন এবং ঠাকুরগাঁও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৪২৭/৫০৬/১১৪ ধারায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
এছাড়া জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আদালতে এম.আর-১৫১/২০২৫ মামলা করা হলে, আটোয়ারী ভূমি অফিসের তদন্তের ভিত্তিতে আদালত দণ্ডবিধি ১৮৯৮-এর ১৪৪/১৪৫ ধারায় উভয় পক্ষকে নিজ নিজ অবস্থান বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের ওই আদেশ অমান্য করে আসামিপক্ষ পুনরায় জমির দখল নেয়। পরে ফজলুর রহমান আবারও বিজ্ঞ আমলী আদালতে মামলা করেন (মামলা নং-১০১/২০২৬), যা বর্তমানে আটোয়ারী থানায় তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে, চলমান মামলার আসামি চুয়েটে কর্মরত প্রকৌশলী মো. মকবুল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ফজলুর রহমানের কোনো জমি নেই।”
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত ন্যায়বিচার ও দখলকৃত জমি ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ