ওসি ফজলুল হকের নেতৃত্বে বদলে গেছে রামুর আইনশৃঙ্খলার চিত্র
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
কক্সবাজারের রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে এ কে ফজলুল হক দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা। পুলিশের তৎপরতা জোরদার হওয়ায় মাদক, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
রামু উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেক অপরাধী গা-ঢাকা দিয়েছে বলেও স্থানীয়দের দাবি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ওসি এ কে ফজলুল হক অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু করেছেন। বিশেষ করে চোর, ডাকাত, মাদক কারবারি ও অন্যান্য অপরাধীর বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেও পুলিশের তৎপরতা আগের তুলনায় বেড়েছে।
সাধারণ মানুষ বলছেন, রামু থানায় বর্তমান ওসি যোগদানের পর অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশের কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি ও নজরদারি বাড়ায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমে এসেছে বলে তারা মনে করছেন।
ওসি এ কে ফজলুল হকের একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হলো-থানাকে দালাল ও তদবিরমুক্ত রাখার চেষ্টা। থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ ও অসহায় মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। দালাল ও অনৈতিক তদবিরকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের পাশাপাশি থানায় তাদের বিষয়ে সচেতনতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সাধারণ মানুষের জন্য রামু থানার দরজা উন্মুক্ত রাখার এই উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, থানায় আগত প্রত্যেক ভুক্তভোগী যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি পুলিশের সেবা ও আইনি সহায়তা পান।
তবে দায়িত্ব পালনের মধ্যেই ওসি এ কে ফজলুল হকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রচারণা চালানো হয়েছে। এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে ওসি বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের অবৈধ কর্মকাণ্ড আড়াল করতে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।
এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক বলেন, জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাব। রামু থানাকে সব ধরনের অপরাধমুক্ত ও একটি আদর্শ থানা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়েই দায়িত্ব পালন করছি। এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে থানায় কোনো ধরনের দালাল ও অনৈতিক তদবিরকারীর স্থান নেই। সাধারণ মানুষ যেন সরাসরি থানায় এসে তাদের সমস্যার কথা বলতে পারেন এবং কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।
ওসি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, তথ্য-প্রমাণ ও আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। কাউকে অযথা হয়রানি বা বিনা কারণে আটক করার সুযোগ নেই। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে রামুকে আরও শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। পুলিশের বর্তমান তৎপরতা ও জনসেবামুখী উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
রামুবাসীর প্রত্যাশা-আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের প্রতি মানবিক ও পেশাদার আচরণের মাধ্যমে রামু থানা জনগণের আস্থার আরও শক্তিশালী ঠিকানায় পরিণত হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ