ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক বাংলাদেশ

পুলিশের ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেপ্তার ১৩, ঢাকায় সরবরাহের পরিকল্পনা

কক্সবাজারে অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে ৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩



কক্সবাজারে অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে ৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩
কক্সবাজারে অভিজাত ফ্ল্যাটে ৩ লাখ ইয়াবা
কক্সবাজার শহরের অভিজাত বহুতল ভবনের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তিন লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকার কেরানীগঞ্জের মো. রাহাদ হোসেন (২৬) নামে আরও একজনকে পলাতক আসামি হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

রোববার (১৮ অক্টোবর) শেষ রাতে কক্সবাজার পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাহারছড়া নিউ সার্কিট হাউস রোড এলাকার ‘কোরাল রিপ পূর্বিতা সুলতান ভিলা’র নবম তলার ৮/এ নম্বর ফ্ল্যাটে এ অভিযান চালানো হয়। একই সময়ে পৃথক অভিযানে ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও অন্যান্য মামলার আসামিসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল ওই ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাউডোবা এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে আরমান রয়াতী প্রকাশ আরমান বয়াতী (২৭), পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ওয়াহেদপুর এলাকার নুরুল আমিনের ছেলে মো. শামীম (৩০) এবং ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ভূইয়ারহাট এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে মো. রাকিব (২৫)।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফ্ল্যাটটিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেখানো মতে তাঁদের শয়নকক্ষের ওয়াল কেবিনেট থেকে দুটি কালো রঙের ট্রাভেল ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগ দুটির ভেতরে স্কচটেপে মোড়ানো ৩০টি প্যাকেটে নীল রঙের পলিজিপারে রাখা মোট তিন লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। এ ছাড়া তিনটি মোবাইল ফোন ও ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ট্রাভেল ব্যাগ জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে ফ্ল্যাটটিতে মজুত করেছিলেন তাঁরা। পলাতক রাহাদ হোসেনের সহায়তায় ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কেনাবেচার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। ফ্ল্যাটটির ভাড়ার চুক্তিও রাহাদের নামে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ১৩

এদিকে, কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের গত ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলায় মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন ছিনতাইকারী, চারজন মাদক ব্যবসায়ী, সাতজন মাদকসেবী এবং ধর্তব্য অপরাধের মামলার একজন আসামি রয়েছেন। তিন লাখ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার তিনজনও এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. জিদান (২১) কক্সবাজার পৌরসভার দক্ষিণ তারাবনিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মাদকসেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন অপু দত্ত (৪২), রনি বড়ুয়া (২৩), সৃজন বড়ুয়া (২৫), হোসেইন আহমেদ (১৯), মো. আরাফাত হোসেন (২২), মো. ইউনুস (২২) ও মো. সেলিম (৪৫)। ধর্তব্য অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম (২৪)।

পুলিশ জানায়, তিন লাখ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পলাতক রাহাদ হোসেনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কক্সবাজার শহরের অভিজাত আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মজুতের ঘটনায় মাদক কারবারের নেটওয়ার্ক, ঢাকায় ইয়াবা সরবরাহের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ফ্ল্যাট ভাড়ার বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

দৈনিক বাংলাদেশ

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


কক্সবাজারে অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে ৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
কক্সবাজার শহরের অভিজাত বহুতল ভবনের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তিন লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকার কেরানীগঞ্জের মো. রাহাদ হোসেন (২৬) নামে আরও একজনকে পলাতক আসামি হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

রোববার (১৮ অক্টোবর) শেষ রাতে কক্সবাজার পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাহারছড়া নিউ সার্কিট হাউস রোড এলাকার ‘কোরাল রিপ পূর্বিতা সুলতান ভিলা’র নবম তলার ৮/এ নম্বর ফ্ল্যাটে এ অভিযান চালানো হয়। একই সময়ে পৃথক অভিযানে ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও অন্যান্য মামলার আসামিসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল ওই ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাউডোবা এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে আরমান রয়াতী প্রকাশ আরমান বয়াতী (২৭), পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ওয়াহেদপুর এলাকার নুরুল আমিনের ছেলে মো. শামীম (৩০) এবং ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ভূইয়ারহাট এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে মো. রাকিব (২৫)।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফ্ল্যাটটিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেখানো মতে তাঁদের শয়নকক্ষের ওয়াল কেবিনেট থেকে দুটি কালো রঙের ট্রাভেল ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগ দুটির ভেতরে স্কচটেপে মোড়ানো ৩০টি প্যাকেটে নীল রঙের পলিজিপারে রাখা মোট তিন লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। এ ছাড়া তিনটি মোবাইল ফোন ও ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ট্রাভেল ব্যাগ জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে ফ্ল্যাটটিতে মজুত করেছিলেন তাঁরা। পলাতক রাহাদ হোসেনের সহায়তায় ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কেনাবেচার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। ফ্ল্যাটটির ভাড়ার চুক্তিও রাহাদের নামে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ১৩

এদিকে, কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের গত ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলায় মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন ছিনতাইকারী, চারজন মাদক ব্যবসায়ী, সাতজন মাদকসেবী এবং ধর্তব্য অপরাধের মামলার একজন আসামি রয়েছেন। তিন লাখ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার তিনজনও এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. জিদান (২১) কক্সবাজার পৌরসভার দক্ষিণ তারাবনিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মাদকসেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন অপু দত্ত (৪২), রনি বড়ুয়া (২৩), সৃজন বড়ুয়া (২৫), হোসেইন আহমেদ (১৯), মো. আরাফাত হোসেন (২২), মো. ইউনুস (২২) ও মো. সেলিম (৪৫)। ধর্তব্য অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম (২৪)।

পুলিশ জানায়, তিন লাখ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পলাতক রাহাদ হোসেনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কক্সবাজার শহরের অভিজাত আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মজুতের ঘটনায় মাদক কারবারের নেটওয়ার্ক, ঢাকায় ইয়াবা সরবরাহের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ফ্ল্যাট ভাড়ার বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

দৈনিক বাংলাদেশ


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ