ঢাকা    শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
দৈনিক বাংলাদেশ

সাংবাদিকদের অধিকার কড়ায় গণ্ডায় বুঝিয়ে দিতে হবে: দাবি সমাবেশে হুঁশিয়ারি



সাংবাদিকদের অধিকার কড়ায় গণ্ডায় বুঝিয়ে দিতে হবে: দাবি সমাবেশে হুঁশিয়ারি
জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাব-এর সামনে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের দাবি সমাবেশে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, রাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী সাংবাদিকদের অধিকার ও প্রাপ্য কড়ায় গণ্ডায় বুঝিয়ে দিতে হবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা তো দূরের কথা, প্রায় সব ক্ষেত্রেই তারা বঞ্চিত হয়েছেন। সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়নে কোনো সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি; বরং অনেক সময় তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

তারা অভিযোগ করেন, সরকারগুলো বরাবরই কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকদের ‘জাতির বিবেক’ বলে অভিহিত করলেও বাস্তবে তাদের অধিকার নিশ্চিত করেনি। তবে এবার সাংবাদিকরা জেগে উঠেছে—তাদের আর দমিয়ে রাখা যাবে না।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের দাবি সরকারকে শুনতে হবে এবং এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। সমাজের অন্যান্য পেশাজীবীদের মতো সাংবাদিকদের দক্ষতা, মর্যাদা ও জীবিকার নিশ্চয়তায় রাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নীরবতা দুঃখজনক।

বক্তারা তথ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক উদ্যোগ—সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়ন ও সুরক্ষা আইন প্রণয়নের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীকে সরাসরি সাংবাদিকদের সমস্যার কথা শুনতে হবে। মুষ্টিমেয় কিছু ‘কুলীন’ সাংবাদিকের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলে চলবে না; বরং দেশের ৬৩ জেলার সাংবাদিকদের বাস্তব সমস্যার কথা জানতে হবে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানসহ সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। গণমাধ্যমকে পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে এবং অকার্যকর প্রেস কাউন্সিলকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে তথ্য কমিশনের মাধ্যমে গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে নিয়ন্ত্রণ ও নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।

তারা বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া গুজব প্রকাশ করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা ও তালিকা প্রণয়ন দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। অতীতে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের জন্য যেসব আইন করা হয়েছিল, ভবিষ্যতে যেন তা পুনরাবৃত্তি না হয়—সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।

সমাবেশ থেকে অবিলম্বে পেশাদার সাংবাদিকদের তালিকা প্রকাশ, নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নসহ ১৪ দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফরের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন—
ওমর ফারুক জালাল, মঞ্জুর হোসেন ঈশা, কবি অশোক ধর, জহিরুল ইসলাম, সুজন মাহমুদ, আবু বকর সিদ্দিক, মিজানুর রহমান মোল্লা, বীথি মোস্তফা, আবুল হোসেন, গাজী মামুনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এছাড়াও আয়োজক সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও দেশের বিভিন্ন জেলার সাংবাদিকরা সমাবেশে অংশ নেন।

সমাবেশ শেষে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে রমনা পার্কে গিয়ে শেষ হয়।

দৈনিক বাংলাদেশ

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


সাংবাদিকদের অধিকার কড়ায় গণ্ডায় বুঝিয়ে দিতে হবে: দাবি সমাবেশে হুঁশিয়ারি

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

featured Image
জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাব-এর সামনে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের দাবি সমাবেশে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, রাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী সাংবাদিকদের অধিকার ও প্রাপ্য কড়ায় গণ্ডায় বুঝিয়ে দিতে হবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা তো দূরের কথা, প্রায় সব ক্ষেত্রেই তারা বঞ্চিত হয়েছেন। সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়নে কোনো সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি; বরং অনেক সময় তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

তারা অভিযোগ করেন, সরকারগুলো বরাবরই কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকদের ‘জাতির বিবেক’ বলে অভিহিত করলেও বাস্তবে তাদের অধিকার নিশ্চিত করেনি। তবে এবার সাংবাদিকরা জেগে উঠেছে—তাদের আর দমিয়ে রাখা যাবে না।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের দাবি সরকারকে শুনতে হবে এবং এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। সমাজের অন্যান্য পেশাজীবীদের মতো সাংবাদিকদের দক্ষতা, মর্যাদা ও জীবিকার নিশ্চয়তায় রাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নীরবতা দুঃখজনক।

বক্তারা তথ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক উদ্যোগ—সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়ন ও সুরক্ষা আইন প্রণয়নের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীকে সরাসরি সাংবাদিকদের সমস্যার কথা শুনতে হবে। মুষ্টিমেয় কিছু ‘কুলীন’ সাংবাদিকের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলে চলবে না; বরং দেশের ৬৩ জেলার সাংবাদিকদের বাস্তব সমস্যার কথা জানতে হবে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানসহ সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। গণমাধ্যমকে পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে এবং অকার্যকর প্রেস কাউন্সিলকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে তথ্য কমিশনের মাধ্যমে গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে নিয়ন্ত্রণ ও নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।

তারা বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া গুজব প্রকাশ করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা ও তালিকা প্রণয়ন দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। অতীতে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের জন্য যেসব আইন করা হয়েছিল, ভবিষ্যতে যেন তা পুনরাবৃত্তি না হয়—সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।

সমাবেশ থেকে অবিলম্বে পেশাদার সাংবাদিকদের তালিকা প্রকাশ, নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নসহ ১৪ দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফরের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন—
ওমর ফারুক জালাল, মঞ্জুর হোসেন ঈশা, কবি অশোক ধর, জহিরুল ইসলাম, সুজন মাহমুদ, আবু বকর সিদ্দিক, মিজানুর রহমান মোল্লা, বীথি মোস্তফা, আবুল হোসেন, গাজী মামুনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এছাড়াও আয়োজক সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও দেশের বিভিন্ন জেলার সাংবাদিকরা সমাবেশে অংশ নেন।

সমাবেশ শেষে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে রমনা পার্কে গিয়ে শেষ হয়।


দৈনিক বাংলাদেশ


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ