ঢাকা    শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
দৈনিক বাংলাদেশ

কক্সবাজার সদর মডেল থানার নতুন ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী



কক্সবাজার সদর মডেল থানার নতুন ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী
ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী
* মাদকবিরোধী অভিযানে আলোচিত এক সাহসী কর্মকর্তা

কক্সবাজার সদর মডেল থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী। তার পদায়নকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা, শুভেচ্ছা ও প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শেখ মোহাম্মদ আলীর জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের মাদকবিরোধী অভিযান, কঠোর প্রশাসনিক অবস্থান এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ের সুনাম।

২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)র ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শেখ মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে উদ্ধার করা হয় ১৭ লাখ ৭৫ হাজার পিস ইয়াবা ও প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ওই ঘটনায় আটক করা হয় ৫ জন মাদক কারবারিকে। প্রায় ৫৩ কোটি টাকা মূল্যের ইয়াবার এ চালান দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এই অসামান্য সাফল্যের জন্য তিনি “পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লেরি গুড সার্ভিস ব্যাজ-২০২১” এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী কর্মকর্তার সম্মাননা লাভ করেন।

পরবর্তীতে পেকুয়া থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি থানার দালালচক্র নিয়ন্ত্রণ, মামলা ও গাড়িকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি বন্ধ এবং থানায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সহজ করার উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসিত হন। একই সময়ে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ ৭ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে আবারও আলোচনায় আসেন।

উখিয়া থানার ওসি হিসেবেও তিনি দালালমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সাধারণ মানুষকে সরাসরি সেবা দেওয়ার মাধ্যমে জনমনে আস্থা তৈরি করেন। স্থানীয়দের অনেকেই তাকে “কঠোর কিন্তু মানবিক কর্মকর্তা” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নতুন দায়িত্বকে স্বাগত জানিয়ে অসংখ্য পোস্ট দেখা গেছে। অনেকে লিখেছেন, “কক্সবাজার সদর থানায় একজন সৎ ও সাহসী কর্মকর্তা এসেছেন।” আবার কেউ কেউ আশা প্রকাশ করেছেন, “তার নেতৃত্বে থানায় হয়রানি কমবে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, কক্সবাজারের মতো স্পর্শকাতর জেলায় মাদক, দালালচক্র, ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তার প্রয়োজন ছিল। অতীতের সফল অভিযান ও প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে শেখ মোহাম্মদ আলীর প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও অনেক বেশি।

এদিকে সচেতন মহল মনে করছেনু, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রশংসার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাস্তবমুখী কার্যক্রম। কক্সবাজার সদর মডেল থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি জনগণের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

দৈনিক বাংলাদেশ

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


কক্সবাজার সদর মডেল থানার নতুন ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image
* মাদকবিরোধী অভিযানে আলোচিত এক সাহসী কর্মকর্তা

কক্সবাজার সদর মডেল থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী। তার পদায়নকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা, শুভেচ্ছা ও প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শেখ মোহাম্মদ আলীর জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের মাদকবিরোধী অভিযান, কঠোর প্রশাসনিক অবস্থান এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ের সুনাম।

২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)র ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শেখ মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে উদ্ধার করা হয় ১৭ লাখ ৭৫ হাজার পিস ইয়াবা ও প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ওই ঘটনায় আটক করা হয় ৫ জন মাদক কারবারিকে। প্রায় ৫৩ কোটি টাকা মূল্যের ইয়াবার এ চালান দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এই অসামান্য সাফল্যের জন্য তিনি “পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লেরি গুড সার্ভিস ব্যাজ-২০২১” এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী কর্মকর্তার সম্মাননা লাভ করেন।

পরবর্তীতে পেকুয়া থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি থানার দালালচক্র নিয়ন্ত্রণ, মামলা ও গাড়িকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি বন্ধ এবং থানায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সহজ করার উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসিত হন। একই সময়ে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ ৭ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে আবারও আলোচনায় আসেন।

উখিয়া থানার ওসি হিসেবেও তিনি দালালমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সাধারণ মানুষকে সরাসরি সেবা দেওয়ার মাধ্যমে জনমনে আস্থা তৈরি করেন। স্থানীয়দের অনেকেই তাকে “কঠোর কিন্তু মানবিক কর্মকর্তা” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নতুন দায়িত্বকে স্বাগত জানিয়ে অসংখ্য পোস্ট দেখা গেছে। অনেকে লিখেছেন, “কক্সবাজার সদর থানায় একজন সৎ ও সাহসী কর্মকর্তা এসেছেন।” আবার কেউ কেউ আশা প্রকাশ করেছেন, “তার নেতৃত্বে থানায় হয়রানি কমবে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, কক্সবাজারের মতো স্পর্শকাতর জেলায় মাদক, দালালচক্র, ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তার প্রয়োজন ছিল। অতীতের সফল অভিযান ও প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে শেখ মোহাম্মদ আলীর প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও অনেক বেশি।

এদিকে সচেতন মহল মনে করছেনু, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রশংসার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাস্তবমুখী কার্যক্রম। কক্সবাজার সদর মডেল থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি জনগণের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

দৈনিক বাংলাদেশ


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ