‘মাদক সম্রাট’ জসিম-সাইফুলসহ চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
* ২৮ হাজার ইয়াবা ও মাইক্রোবাস জব্দ
চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বন্দর বিভাগের বিশেষ অভিযানে আলোচিত মাদক কারবারি মো. জসিম উদ্দীন ও মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন চক্রের চার সদস্যকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে মোট ২৮ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার এবং ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের পুরাতন নোহা বক্সি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি (বন্দর) বিভাগের স্পেশাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ ফজলুল কাদের চৌধুরীর নেতৃত্বে গত ১১ মে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্ণফুলী থানাধীন শিকলবাহা কলেজ বাজার এলাকার আরিফ উল্লাহ শপিং কমপ্লেক্সের বিপরীত পাশে অবস্থিত মেসার্স শোভা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সামনে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ইয়াবা পাচারের সময় সংঘবদ্ধ চক্রটির চার সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কক্সবাজার পৌরসভা ১০নং ওয়ার্ড মহাজের পাড়ার মো. জসিম উদ্দীন (৪৮), কক্সবাজার পৌরসভা ১০নং ওয়ার্ড পূর্ব মহাজের পাড়ার মো. সাইফুল ইসলাম (৩২), উখিয়া উপজেলার রাজাপালং এলাকার আব্দুর রহিম ওরফে টিপু (৩৪), এবং রামু উপজেলার খুনিয়া পালং এলাকার (গাড়িচালক) মোহামুদুল হক (৪৪)।
পুলিশ জানায়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুট ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গ্রেফতার মো. জসিম উদ্দীন ও মো. সাইফুল ইসলাম এলাকায় পরিচিত ও সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ী চক্রের মূল সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করতেন। তারা ইয়াবা সংগ্রহ, পরিবহন এবং বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন।
এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) এর সারণি ১০(গ)/৩৮/৪১ ধারায় মামলা (নং-১৪, তারিখ ১১/০৫/২০২৬) রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার মো. জসিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মোট ৫টি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, আব্দুর রহিম ওরফে টিপুর বিরুদ্ধে মাদক আইনে ১টি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আরও ১টিসহ মোট ২টি মামলা রয়েছে।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, জসিম-সাইফুল চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। জব্দকৃত ইয়াবার উৎস, অর্থায়ন ও আন্তঃজেলা মাদক নেটওয়ার্কের তথ্য উদঘাটনে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
এই অভিযানে বড় ধরনের মাদক চালান আটকের ঘটনায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে সক্রিয় মাদক সিন্ডিকেটের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ