ঢাকা    রোববার, ২৪ মে ২০২৬
দৈনিক বাংলাদেশ

উখিয়ায় আলোচিত অপহরণ-নির্যাতন মামলার এজাহারভুক্ত আসামী সৈকত আটক



উখিয়ায় আলোচিত অপহরণ-নির্যাতন মামলার এজাহারভুক্ত আসামী সৈকত আটক

কক্সবাজারের উখিয়ায় পেশাদার গাড়িচালক কামাল উদ্দিনকে অপহরণ, মারধর, ছিনতাই ও মুক্তিপণের দাবিতে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের হওয়া জিআর-২৯৮/২০২৬ইং (উখিয়া) মামলার এজাহারভুক্ত নামীয় আসামী রাকিবুল ইসলাম সৈকতকে আটক করেছে উখিয়া থানা পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলা রেকর্ড হওয়ার পর উখিয়া থানায় কর্মরত এসআই অনুমন মারমার নেতৃত্বে একদল পুলিশ গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সৈকতকে তার নিজ বাসা থেকে আটক করে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।থানায় দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মে ২০২৬ইং বিকেলে ভুক্তভোগী কামাল উদ্দিন তার ক্যান্সারে আক্রান্ত পিতার চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে বাড়িতে ভিজানো সুপারি কুতুপালং বাজারে নিয়ে বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে কোটবাজার উত্তর স্টেশন তেচ্ছী ব্রিজ সংলগ্ন শাহ আলম চেয়ারম্যানের মার্কেটের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা একদল দুষ্কৃতকারী তার পথরোধ করে।এসময় একটি ‘পালং সার্ভিস’ গাড়িতে থাকা সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায়। পরে তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে চোখ-মুখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। চলন্ত গাড়িতে তার পকেটে থাকা সুপারি বিক্রির নগদ ৫০ হাজার টাকা ও প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অপহরণকারীরা কামালের নিকট ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাঠের লাঠি, বৈদ্যুতিক তার ও গাড়ির ফ্যানবেল্ট দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে মৃত ভেবে চোখ-মুখ ও হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখা হয়।পরদিন ১৮ মে সন্ধ্যায় উখিয়া খাদ্য গুদাম সংলগ্ন ফুটবল মাঠের পাশে গুরুতর আহত ও মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অপহরণকারীরা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।চিকিৎসা শেষে ভুক্তভোগী কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনকে আসামী করে উখিয়া থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।উখিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, "ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং জড়িত অন্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

দৈনিক বাংলাদেশ

রোববার, ২৪ মে ২০২৬


উখিয়ায় আলোচিত অপহরণ-নির্যাতন মামলার এজাহারভুক্ত আসামী সৈকত আটক

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের উখিয়ায় পেশাদার গাড়িচালক কামাল উদ্দিনকে অপহরণ, মারধর, ছিনতাই ও মুক্তিপণের দাবিতে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের হওয়া জিআর-২৯৮/২০২৬ইং (উখিয়া) মামলার এজাহারভুক্ত নামীয় আসামী রাকিবুল ইসলাম সৈকতকে আটক করেছে উখিয়া থানা পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলা রেকর্ড হওয়ার পর উখিয়া থানায় কর্মরত এসআই অনুমন মারমার নেতৃত্বে একদল পুলিশ গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সৈকতকে তার নিজ বাসা থেকে আটক করে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।থানায় দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মে ২০২৬ইং বিকেলে ভুক্তভোগী কামাল উদ্দিন তার ক্যান্সারে আক্রান্ত পিতার চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে বাড়িতে ভিজানো সুপারি কুতুপালং বাজারে নিয়ে বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে কোটবাজার উত্তর স্টেশন তেচ্ছী ব্রিজ সংলগ্ন শাহ আলম চেয়ারম্যানের মার্কেটের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা একদল দুষ্কৃতকারী তার পথরোধ করে।এসময় একটি ‘পালং সার্ভিস’ গাড়িতে থাকা সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায়। পরে তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে চোখ-মুখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। চলন্ত গাড়িতে তার পকেটে থাকা সুপারি বিক্রির নগদ ৫০ হাজার টাকা ও প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অপহরণকারীরা কামালের নিকট ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাঠের লাঠি, বৈদ্যুতিক তার ও গাড়ির ফ্যানবেল্ট দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে মৃত ভেবে চোখ-মুখ ও হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখা হয়।পরদিন ১৮ মে সন্ধ্যায় উখিয়া খাদ্য গুদাম সংলগ্ন ফুটবল মাঠের পাশে গুরুতর আহত ও মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অপহরণকারীরা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।চিকিৎসা শেষে ভুক্তভোগী কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনকে আসামী করে উখিয়া থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।উখিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, "ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং জড়িত অন্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


দৈনিক বাংলাদেশ


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ