ঢাকা    মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক বাংলাদেশ

নজিরুলের সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগের জবাবে ফরিদুল আলমের হুঁশিয়ারি : আইনগত ব্যবস্থা নেব



নজিরুলের সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগের জবাবে ফরিদুল আলমের হুঁশিয়ারি : আইনগত ব্যবস্থা নেব
ফরিদুল আলমের হুঁশিয়ারি
কক্সবাজারের সৌদি প্রবাসী ও সমুদ্র কান্তা গেস্ট হাউসের মালিক ফরিদুল আলম এবং এনামকে জড়িয়ে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফরিদুল আলম। তিনি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

গত ২৬ আগস্ট নজিরুল আলমের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ফরিদুল আলম ও এনামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজারের কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা তার নজরে আসে বলে জানিয়েছেন ফরিদুল আলম।

এক প্রতিবাদলিপিতে ফরিদুল আলম বলেন, নজিরুল আলম তার পূর্বপরিচিত হওয়ায় একসময় সমুদ্র কান্তা গেস্ট হাউস ভাড়া নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সে সময় তিনি সৌদি আরবে প্রবাসে থাকায় গেস্ট হাউসটি ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন।

ফরিদুল আলমের দাবি, গেস্ট হাউসটি ভাড়া নেওয়ার পর ভাড়া পরিশোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়ম দেখা দেয়। পাশাপাশি গেস্ট হাউসে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও তার নজরে আসে। প্রায় দুই বছর আগে সমুদ্র কান্তা গেস্ট হাউসে নারী নিয়ে অনৈতিক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে ভিডিও সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বলে জানান।

এরপর তিনি ভাড়াটিয়াকে গেস্ট হাউস ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলেন। তবে এতে ভাড়াটিয়া সাড়া না দেওয়ায় স্থানীয় হারুন রশীদ ও বাবুল নেওয়াজের মধ্যস্থতায় বিষয়টি নিয়ে সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফরিদুল আলম জানান, মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে পরবর্তীতে উভয় পক্ষ নতুন করে নির্দিষ্ট মেয়াদের ভাড়ার চুক্তিতে সম্মত হয়। তার দাবি অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ২০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য ভাড়ার চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তিতে স্ট্যাম্প নম্বর হিসেবে গ জ-৭৩৭৭৫২২, ৭৩৫৮২৪৭ ও ৭৩৫৮২৪৮ উল্লেখ করা হয়েছে।

তার দাবি, ওই ছয় মাসের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নজিরুল আলমের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তি হয়নি। কিন্তু ১ জানুয়ারি ২০২৩ থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত মেয়াদের একটি কথিত চুক্তিপত্র দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করা হচ্ছে।

ফরিদুল আলম অভিযোগ করেন, ওই কথিত চুক্তিপত্রে তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান।

প্রতিবাদলিপিতে তিনি আরও বলেন, সংবাদ সম্মেলনে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করলেই তা সত্য প্রমাণিত হয় না। কোনো বিরোধ বা অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে।

ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম ব্যবহার করে কারও সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত সুনাম ও পারিবারিক সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা অনাকাঙ্ক্ষিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে একতরফাভাবে কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ফরিদুল আলম সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমসহ সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য।

একই সঙ্গে নজিরুল আলমের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জবাব দেওয়া হবে বলে প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফরিদুল আলম বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিরোধ দেখা দিলে তা আইন ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সমাধান হওয়াই কাম্য। মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার মাধ্যমে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।

নিজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত ও যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন ফরিদুল আলম। একই সঙ্গে কোনো পক্ষের বক্তব্য যথাযথভাবে যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রচার না করার আহ্বান জানান তিনি।

দৈনিক বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নজিরুলের সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগের জবাবে ফরিদুল আলমের হুঁশিয়ারি : আইনগত ব্যবস্থা নেব

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কক্সবাজারের সৌদি প্রবাসী ও সমুদ্র কান্তা গেস্ট হাউসের মালিক ফরিদুল আলম এবং এনামকে জড়িয়ে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফরিদুল আলম। তিনি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

গত ২৬ আগস্ট নজিরুল আলমের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ফরিদুল আলম ও এনামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজারের কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা তার নজরে আসে বলে জানিয়েছেন ফরিদুল আলম।

এক প্রতিবাদলিপিতে ফরিদুল আলম বলেন, নজিরুল আলম তার পূর্বপরিচিত হওয়ায় একসময় সমুদ্র কান্তা গেস্ট হাউস ভাড়া নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সে সময় তিনি সৌদি আরবে প্রবাসে থাকায় গেস্ট হাউসটি ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন।

ফরিদুল আলমের দাবি, গেস্ট হাউসটি ভাড়া নেওয়ার পর ভাড়া পরিশোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়ম দেখা দেয়। পাশাপাশি গেস্ট হাউসে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও তার নজরে আসে। প্রায় দুই বছর আগে সমুদ্র কান্তা গেস্ট হাউসে নারী নিয়ে অনৈতিক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে ভিডিও সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বলে জানান।

এরপর তিনি ভাড়াটিয়াকে গেস্ট হাউস ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলেন। তবে এতে ভাড়াটিয়া সাড়া না দেওয়ায় স্থানীয় হারুন রশীদ ও বাবুল নেওয়াজের মধ্যস্থতায় বিষয়টি নিয়ে সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফরিদুল আলম জানান, মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে পরবর্তীতে উভয় পক্ষ নতুন করে নির্দিষ্ট মেয়াদের ভাড়ার চুক্তিতে সম্মত হয়। তার দাবি অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ২০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য ভাড়ার চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তিতে স্ট্যাম্প নম্বর হিসেবে গ জ-৭৩৭৭৫২২, ৭৩৫৮২৪৭ ও ৭৩৫৮২৪৮ উল্লেখ করা হয়েছে।

তার দাবি, ওই ছয় মাসের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নজিরুল আলমের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তি হয়নি। কিন্তু ১ জানুয়ারি ২০২৩ থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত মেয়াদের একটি কথিত চুক্তিপত্র দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করা হচ্ছে।

ফরিদুল আলম অভিযোগ করেন, ওই কথিত চুক্তিপত্রে তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান।

প্রতিবাদলিপিতে তিনি আরও বলেন, সংবাদ সম্মেলনে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করলেই তা সত্য প্রমাণিত হয় না। কোনো বিরোধ বা অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে।

ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম ব্যবহার করে কারও সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত সুনাম ও পারিবারিক সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা অনাকাঙ্ক্ষিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে একতরফাভাবে কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ফরিদুল আলম সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমসহ সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য।

একই সঙ্গে নজিরুল আলমের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জবাব দেওয়া হবে বলে প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফরিদুল আলম বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিরোধ দেখা দিলে তা আইন ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সমাধান হওয়াই কাম্য। মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার মাধ্যমে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।

নিজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত ও যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন ফরিদুল আলম। একই সঙ্গে কোনো পক্ষের বক্তব্য যথাযথভাবে যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রচার না করার আহ্বান জানান তিনি।

দৈনিক বাংলাদেশ


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ