কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বর্তমানে পুলিশে কর্মরত নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে একাধিক নারীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা, পরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া এবং কয়েকজন নারীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের মধ্যে কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী, প্রবাসীর স্ত্রী এবং তাঁর নিজ এলাকার কয়েকজন নারী রয়েছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুরুল আবছার কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা আবু তাহেরের ছেলে। বর্তমানে তিনি বান্দরবান জেলার একটি পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।রাজারকুল এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, ছাত্রজীবন থেকেই নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে একাধিক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় তিন বছর আগে দক্ষিণপাড়া এলাকার তৎকালীন এক স্কুলপড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই তরুণীর অভিযোগ, বিয়ের আশ্বাসে তাঁকে কয়েকবার হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। পরে বিয়ের কথা তুললে নুরুল আবছার তাঁর মোবাইল নম্বর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। আরও অভিযোগ রয়েছে, কলেজে পড়ার সময় তাঁর এক সহপাঠীর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।এছাড়াও, ২০২৫ সালে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় বসবাসকারী প্রবাসী এক ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে নুরুল আবছারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই নারীর পরিচিত কয়েকজনের দাবি, তাঁকে বিয়ে করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল এবং সম্পর্কের একপর্যায়ে ওই নারীর কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, শেষ পর্যন্ত বিয়ের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। এদিকে, সম্প্রতি কক্সবাজার সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থীও নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।ওই শিক্ষার্থীর দাবি, প্রায় এক বছর তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের ছয় মাসের মাথায় কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার একটি হোটেলে তাঁরা অবস্থান করেন। তাঁর দাবি, ওই হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অতিথি নিবন্ধন খাতায় তাঁদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তথ্য লেখা রয়েছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজারকুল এলাকার এক প্রবাসী অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গেও নুরুল আবছারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।প্রবাসীর দাবি, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেন ওই পুলিশ সদস্য এবং বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছ থেকে অর্থও নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর দাম্পত্য জীবন বর্তমানে সংকটে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।ওই প্রবাসী আরও জানান, কয়েক মাস আগে কক্সবাজার আদালতের একজন আইনজীবীর মাধ্যমে নুরুল আবছারকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। পাশাপাশি রামু থানাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দপ্তরেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।প্রবাসী ওই ব্যক্তির অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী ও নুরুল আবছার কক্সবাজারের ইনানী এলাকার একটি হোটেলে একাধিকবার অবস্থান করেছিলেন। একই সময় তাঁদের মোবাইল ফোনের অবস্থান ও যোগাযোগের তথ্য CDR-এ পাওয়া যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।ওই প্রবাসী আরও দাবি করেন, কক্সবাজার শিল্প ও বাণিজ্য মেলায়ও তাঁর স্ত্রীকে নুরুল আবছারের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল।এছাড়া প্রায় দুই মাস আগে কক্সবাজারের খরুলিয়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় দুজন একসঙ্গে অবস্থান করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তাঁরা সেখানে কয়েকদিন স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে ছিলেন।অভিযোগকারীর দাবি, ওই সময় নুরুল আবছার কর্মস্থল থেকে পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে ছুটি নিয়েছিলেন। একজন সরকারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ একাধিক ব্যক্তি তোলায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।অভিযোগগুলো সত্য হলে প্রশ্ন উঠবে, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যাওয়ার পর বিভাগীয়ভাবে বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে কি না। আবার অভিযোগগুলো অসত্য হলে সেক্ষেত্রে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বক্তব্য ও অবস্থানও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে পুলিশ সদস্য নুরুল আবছারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “লিগ্যাল নোটিশ পেয়েছি। আইনগতভাবে যা করার, তা করবে।” এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর কল রিসিভ করেননি।

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বর্তমানে পুলিশে কর্মরত নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে একাধিক নারীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা, পরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া এবং কয়েকজন নারীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের মধ্যে কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী, প্রবাসীর স্ত্রী এবং তাঁর নিজ এলাকার কয়েকজন নারী রয়েছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুরুল আবছার কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা আবু তাহেরের ছেলে। বর্তমানে তিনি বান্দরবান জেলার একটি পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।রাজারকুল এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, ছাত্রজীবন থেকেই নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে একাধিক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় তিন বছর আগে দক্ষিণপাড়া এলাকার তৎকালীন এক স্কুলপড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই তরুণীর অভিযোগ, বিয়ের আশ্বাসে তাঁকে কয়েকবার হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। পরে বিয়ের কথা তুললে নুরুল আবছার তাঁর মোবাইল নম্বর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। আরও অভিযোগ রয়েছে, কলেজে পড়ার সময় তাঁর এক সহপাঠীর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।এছাড়াও, ২০২৫ সালে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় বসবাসকারী প্রবাসী এক ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে নুরুল আবছারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই নারীর পরিচিত কয়েকজনের দাবি, তাঁকে বিয়ে করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল এবং সম্পর্কের একপর্যায়ে ওই নারীর কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, শেষ পর্যন্ত বিয়ের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। এদিকে, সম্প্রতি কক্সবাজার সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থীও নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।ওই শিক্ষার্থীর দাবি, প্রায় এক বছর তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের ছয় মাসের মাথায় কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার একটি হোটেলে তাঁরা অবস্থান করেন। তাঁর দাবি, ওই হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অতিথি নিবন্ধন খাতায় তাঁদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তথ্য লেখা রয়েছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজারকুল এলাকার এক প্রবাসী অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গেও নুরুল আবছারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।প্রবাসীর দাবি, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেন ওই পুলিশ সদস্য এবং বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছ থেকে অর্থও নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর দাম্পত্য জীবন বর্তমানে সংকটে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।ওই প্রবাসী আরও জানান, কয়েক মাস আগে কক্সবাজার আদালতের একজন আইনজীবীর মাধ্যমে নুরুল আবছারকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। পাশাপাশি রামু থানাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দপ্তরেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।প্রবাসী ওই ব্যক্তির অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী ও নুরুল আবছার কক্সবাজারের ইনানী এলাকার একটি হোটেলে একাধিকবার অবস্থান করেছিলেন। একই সময় তাঁদের মোবাইল ফোনের অবস্থান ও যোগাযোগের তথ্য CDR-এ পাওয়া যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।ওই প্রবাসী আরও দাবি করেন, কক্সবাজার শিল্প ও বাণিজ্য মেলায়ও তাঁর স্ত্রীকে নুরুল আবছারের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল।এছাড়া প্রায় দুই মাস আগে কক্সবাজারের খরুলিয়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় দুজন একসঙ্গে অবস্থান করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তাঁরা সেখানে কয়েকদিন স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে ছিলেন।অভিযোগকারীর দাবি, ওই সময় নুরুল আবছার কর্মস্থল থেকে পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে ছুটি নিয়েছিলেন। একজন সরকারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ একাধিক ব্যক্তি তোলায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।অভিযোগগুলো সত্য হলে প্রশ্ন উঠবে, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যাওয়ার পর বিভাগীয়ভাবে বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে কি না। আবার অভিযোগগুলো অসত্য হলে সেক্ষেত্রে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বক্তব্য ও অবস্থানও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে পুলিশ সদস্য নুরুল আবছারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “লিগ্যাল নোটিশ পেয়েছি। আইনগতভাবে যা করার, তা করবে।” এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর কল রিসিভ করেননি।
