প্রকৃতি বাঁচাতে মাঠে ওয়ার্ল্ড ভিশন: শিশুদের হাত ধরে সবুজ বাংলাদেশের অঙ্গীকার
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
“বৃক্ষ বাঁচুক, সবুজ প্রকৃতি বাঁচুক, বেঁচে থাকুক মানবসভ্যতা”এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে কক্সবাজারে পরিবেশ সুরক্ষা ও শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ব্যতিক্রমী বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করেছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ।
বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার প্রতি মনোযোগ বাড়ানোর বিষয়ে কর্মসূচিতে বিভিন্ন বার্তা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কক্সবাজারের মো. ইলিয়াস মিয়া চৌং উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ ন ম মাইনউদ্দিন। তিনি বলেন, বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া কমানো, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং পরিবেশ রক্ষার মতো বিষয়গুলোকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, প্রতিটি চারার নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের দায়িত্বও নিতে হবে। পাশাপাশি লেখাপড়ায় মনোযোগী হয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে না পড়ে এবং কোনো শিশু যেন বাল্যবিবাহের শিকার না হয়, সে বিষয়ে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে হবে। শিক্ষা ও পরিবেশ সচেতনতা একসঙ্গে এগিয়ে নিলে একটি সুন্দর ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রুহুল আমিন খান বলেন, “বৃক্ষ বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে, আর প্রকৃতি বাঁচলেই টিকে থাকবে মানবসভ্যতা। পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রোপণ করা গাছের সুষ্ঠু পরিচর্যা নিশ্চিত করাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ মানুষকে পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিতভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
একই বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ জনী বাড়ির আঙিনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তার পাশ, খালি জায়গা ও উপযুক্ত সরকারি জমিতে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় ও পরিবেশবান্ধব গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।
ওয়ার্ল্ড ভিশনের চাইল্ড সেফটি নেট প্রজেক্টের প্রজেক্ট ম্যানেজার সাগর ডি কস্তা বলেন, আজকের রোপণ করা একটি চারা যেমন আগামী দিনের ছায়াবৃত্ত বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়, তেমনি আজকের শিশুরাই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের মূল কাণ্ডারি।
তিনি বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার পাশাপাশি তাদের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমাজের দায়িত্ব। একটি গাছ লাগানো শুধু মাটিতে একটি চারা রোপণ নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবীর ভিত্তি নির্মাণের অংশ।
সাগর ডি কস্তা আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও শিশুদের সুরক্ষাদুটিই সমান্তরালে এগিয়ে নিতে হবে। আজকের সবুজ উদ্যোগই আগামী প্রজন্মের নিরাপদ ভবিষ্যতের ভিত্তি। এই বার্তা নিয়েই আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চাইল্ড সেফটি নেট প্রজেক্টের অ্যাডভোকেসি কোঅর্ডিনেটর জয়শ্রী পিউরিফিকেশন, উপজেলা কোঅর্ডিনেটর জগন্ময় প্রজেস বিশ্বাস এবং মোবিলাইজেশন অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেংদেনিং অফিসার পার্থ প্রতীম বাগচী। এ সময় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ইমাম খালেদ স্বপনসহ শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে ওয়ার্ল্ড ভিশনের অর্থায়ন ও পরিচালনায় বিদ্যালয় মাঠের এক প্রান্তে সারিবদ্ধভাবে বিভিন্ন প্রজাতির ছায়াদার ও পরিবেশবান্ধব গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন জাতের ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। শুধু চারা বিতরণেই সীমাবদ্ধ না থেকে রোপণ করা গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল করে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশ সুরক্ষা, শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া রোধ ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধএসব বিষয়কে সমন্বিতভাবে সামনে রেখে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সবুজ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় শপথ এবং প্রকৃতি ও মানবকল্যাণে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ