ঢাকা    সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক বাংলাদেশ

টেকনাফে র‌্যাবের পৃথক অভিযানে ১ লাখ ইয়াবাসহ কারবারি ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার



টেকনাফে র‌্যাবের পৃথক অভিযানে ১ লাখ ইয়াবাসহ কারবারি ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার
কারবারি ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার
কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে র‌্যাব-১৫। পৃথক দুই অভিযানে এক লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি মোহাম্মদ হারুন (৩২)-কেও গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব-১৫ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ আগস্ট বিকেলে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে এক লাখ পিস ইয়াবাসহ সোলতান আহমদ (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপরদিকে, ১৮ আগস্ট গভীর রাতে টেকনাফের ছৈয়দের বাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মোহাম্মদ হারুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এক লাখ ইয়াবাসহ সিএনজি চালক গ্রেপ্তার:

র‌্যাব জানায়, ১৭ আগস্ট বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে র‌্যাব-১৫, সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প) এর একটি আভিযানিক দল টেকনাফ থানাধীন শাপলা চত্বর বাজার এলাকায় অবস্থানকালে গোয়েন্দা তথ্য পায়—একজন মাদক কারবারি সিএনজি অটোরিকশাযোগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে হ্নীলা ইউনিয়নের উলুচামারী এলাকার সড়ক দিয়ে যাবে।

ওই তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উলুচামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন নূর সাদিয়া স্টোরের সামনে পাকা সড়কে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।

এরপর বিকেল ৫টা ৫ মিনিটের দিকে উলুচামারী দিক থেকে আসা একটি সন্দেহভাজন সিএনজি অটোরিকশাকে থামার সংকেত দেওয়া হলে চালক পালানোর চেষ্টা করেন। পরে র‌্যাব সদস্যরা তাকে আটক করে সিএনজি ও তার দেহ তল্লাশি করেন।

তল্লাশির সময় সিএনজির যাত্রী বসার সিটের পেছনে বিশেষভাবে রাখা একটি বস্তার ভেতর থেকে এক লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার সোলতান আহমদ (৩৮) টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পূর্ব রংগীখালী (লামাপাড়া), দক্ষিণ হ্নীলা এলাকার মৃত আবুল কালামের ছেলে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে টেকনাফ মডেল থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হারুনও গ্রেপ্তার:

অন্যদিকে, ১৮ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ উপজেলার ছৈয়দের বাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাবের আরেকটি বিশেষ আভিযানিক দল।

অভিযানের সময় দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোহাম্মদ হারুনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।

হারুন টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বালুখালী গ্রামের ছৈয়দ আহম্মদের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, হারুনের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মাদক মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারিক কার্যক্রম শেষে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর র‌্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফের ছৈয়দের বাড়ি এলাকায় তার অবস্থানের তথ্য পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক জানান, মোহাম্মদ হারুন মাদক মামলায় আদালত কর্তৃক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত

র‌্যাব-১৫ সূত্র জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে টেকনাফসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক কারবারি, মাদক পরিবহনকারী এবং বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিনের পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

র‌্যাবের দাবি, অপরাধী যতদিনই আত্মগোপনে থাকুক, গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে র‌্যাবের কঠোর ও আপসহীন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

দৈনিক বাংলাদেশ

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


টেকনাফে র‌্যাবের পৃথক অভিযানে ১ লাখ ইয়াবাসহ কারবারি ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image
কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে র‌্যাব-১৫। পৃথক দুই অভিযানে এক লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি মোহাম্মদ হারুন (৩২)-কেও গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব-১৫ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ আগস্ট বিকেলে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে এক লাখ পিস ইয়াবাসহ সোলতান আহমদ (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপরদিকে, ১৮ আগস্ট গভীর রাতে টেকনাফের ছৈয়দের বাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মোহাম্মদ হারুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এক লাখ ইয়াবাসহ সিএনজি চালক গ্রেপ্তার:

র‌্যাব জানায়, ১৭ আগস্ট বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে র‌্যাব-১৫, সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প) এর একটি আভিযানিক দল টেকনাফ থানাধীন শাপলা চত্বর বাজার এলাকায় অবস্থানকালে গোয়েন্দা তথ্য পায়—একজন মাদক কারবারি সিএনজি অটোরিকশাযোগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে হ্নীলা ইউনিয়নের উলুচামারী এলাকার সড়ক দিয়ে যাবে।

ওই তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উলুচামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন নূর সাদিয়া স্টোরের সামনে পাকা সড়কে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।

এরপর বিকেল ৫টা ৫ মিনিটের দিকে উলুচামারী দিক থেকে আসা একটি সন্দেহভাজন সিএনজি অটোরিকশাকে থামার সংকেত দেওয়া হলে চালক পালানোর চেষ্টা করেন। পরে র‌্যাব সদস্যরা তাকে আটক করে সিএনজি ও তার দেহ তল্লাশি করেন।

তল্লাশির সময় সিএনজির যাত্রী বসার সিটের পেছনে বিশেষভাবে রাখা একটি বস্তার ভেতর থেকে এক লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার সোলতান আহমদ (৩৮) টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পূর্ব রংগীখালী (লামাপাড়া), দক্ষিণ হ্নীলা এলাকার মৃত আবুল কালামের ছেলে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে টেকনাফ মডেল থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হারুনও গ্রেপ্তার:

অন্যদিকে, ১৮ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ উপজেলার ছৈয়দের বাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাবের আরেকটি বিশেষ আভিযানিক দল।

অভিযানের সময় দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোহাম্মদ হারুনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।

হারুন টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বালুখালী গ্রামের ছৈয়দ আহম্মদের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, হারুনের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মাদক মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারিক কার্যক্রম শেষে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর র‌্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফের ছৈয়দের বাড়ি এলাকায় তার অবস্থানের তথ্য পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক জানান, মোহাম্মদ হারুন মাদক মামলায় আদালত কর্তৃক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত

র‌্যাব-১৫ সূত্র জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে টেকনাফসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক কারবারি, মাদক পরিবহনকারী এবং বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিনের পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

র‌্যাবের দাবি, অপরাধী যতদিনই আত্মগোপনে থাকুক, গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে র‌্যাবের কঠোর ও আপসহীন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

দৈনিক বাংলাদেশ


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ