ঢাকা    সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক বাংলাদেশ

মাদকবিরোধী সমাবেশে ওসি আব্দুস সুলতানের কড়া হুঁশিয়ারি

‘হয় মাদক ছাড়ুন, নয়তো মহেশখালী ছাড়ুন’



‘হয় মাদক ছাড়ুন, নয়তো মহেশখালী ছাড়ুন’
ওসি আব্দুস সুলতানের কড়া হুঁশিয়ারি
“হয় মাদক ছাড়ুন, নয়তো মহেশখালী ছাড়ুন। মহেশখালীর মাটিতে কোনো মাদক কারবারির স্থান হবে না।” কক্সবাজারের মহেশখালীতে মাদকবিরোধী র‌্যালি ও সমাবেশে মাদক কারবারিদের উদ্দেশে এমনই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সুলতান।

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশনায় সোমবার (১৭ আগস্ট) মহেশখালীতে মাদকবিরোধী র‌্যালি, সমাবেশ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহেশখালী থানা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে লম্বাঘোনা বাজার এলাকায় ‘মাদককে না বলুন’ স্লোগানকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা ও সচেতনতামূলক সমাবেশ।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহেশখালী থানার ওসি আব্দুস সুলতান মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না; এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর পড়ে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

মাদক কারবারিদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে ওসি আব্দুস সুলতান বলেন, আমি স্পষ্ট করে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছি—হয় মাদক ছাড়ুন, নয়তো মহেশখালী ছাড়ুন। মহেশখালীর মাটিতে কোনো মাদক কারবারির স্থান হবে না।

তিনি বলেন, মাদক ব্যবসা করে কেউ পার পাবে না। মাদকের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ কোনো মাদক কারবারিকে ছাড় দেবে না।

ওসি আরও বলেন, মহেশখালীকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক কারবারিরা যাতে নতুন করে ঘাঁটি গড়ে তুলতে না পারে, সে বিষয়েও পুলিশ সতর্ক রয়েছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি মাদক পরিবহন, সরবরাহ ও বিক্রিতে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, মাদক নির্মূল শুধু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। একটি পরিবার, একটি মহল্লা কিংবা একটি ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করতে হলে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। আপনার এলাকায় কে মাদক বিক্রি করছে, কে মাদক পরিবহন করছে—এসব তথ্য পুলিশকে জানান। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে।

মহেশখালী থানার ওসি স্থানীয় অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা ও সঙ্গীদের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং কী করছে—এ বিষয়ে অভিভাবকদের খোঁজ রাখতে হবে। পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় হতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে শুধু অভিযান ও গ্রেপ্তার নয়, একই সঙ্গে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। তরুণ সমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এমন কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে মাদক কারবারিদের উদ্দেশে ওসি আব্দুস সুলতানের কঠোর বার্তা মহেশখালীতে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন তারা।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।

এ সময় বক্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে মাদককে ‘না’ বলার অঙ্গীকার করেন এবং মহেশখালীকে মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

দৈনিক বাংলাদেশ

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


‘হয় মাদক ছাড়ুন, নয়তো মহেশখালী ছাড়ুন’

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image
“হয় মাদক ছাড়ুন, নয়তো মহেশখালী ছাড়ুন। মহেশখালীর মাটিতে কোনো মাদক কারবারির স্থান হবে না।” কক্সবাজারের মহেশখালীতে মাদকবিরোধী র‌্যালি ও সমাবেশে মাদক কারবারিদের উদ্দেশে এমনই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সুলতান।

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশনায় সোমবার (১৭ আগস্ট) মহেশখালীতে মাদকবিরোধী র‌্যালি, সমাবেশ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহেশখালী থানা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে লম্বাঘোনা বাজার এলাকায় ‘মাদককে না বলুন’ স্লোগানকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা ও সচেতনতামূলক সমাবেশ।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহেশখালী থানার ওসি আব্দুস সুলতান মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না; এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর পড়ে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

মাদক কারবারিদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে ওসি আব্দুস সুলতান বলেন, আমি স্পষ্ট করে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছি—হয় মাদক ছাড়ুন, নয়তো মহেশখালী ছাড়ুন। মহেশখালীর মাটিতে কোনো মাদক কারবারির স্থান হবে না।

তিনি বলেন, মাদক ব্যবসা করে কেউ পার পাবে না। মাদকের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ কোনো মাদক কারবারিকে ছাড় দেবে না।

ওসি আরও বলেন, মহেশখালীকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক কারবারিরা যাতে নতুন করে ঘাঁটি গড়ে তুলতে না পারে, সে বিষয়েও পুলিশ সতর্ক রয়েছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি মাদক পরিবহন, সরবরাহ ও বিক্রিতে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, মাদক নির্মূল শুধু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। একটি পরিবার, একটি মহল্লা কিংবা একটি ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করতে হলে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। আপনার এলাকায় কে মাদক বিক্রি করছে, কে মাদক পরিবহন করছে—এসব তথ্য পুলিশকে জানান। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে।

মহেশখালী থানার ওসি স্থানীয় অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা ও সঙ্গীদের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং কী করছে—এ বিষয়ে অভিভাবকদের খোঁজ রাখতে হবে। পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় হতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে শুধু অভিযান ও গ্রেপ্তার নয়, একই সঙ্গে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। তরুণ সমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এমন কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে মাদক কারবারিদের উদ্দেশে ওসি আব্দুস সুলতানের কঠোর বার্তা মহেশখালীতে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন তারা।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।

এ সময় বক্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে মাদককে ‘না’ বলার অঙ্গীকার করেন এবং মহেশখালীকে মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

দৈনিক বাংলাদেশ


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ