ঢাকা    সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক বাংলাদেশ

কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গণে ৮০ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস



কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গণে ৮০ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস
৮০ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস
কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গণে প্রায় ৮০ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম শেষে বিভিন্ন মামলায় জব্দ করা এসব মাদক আদালতের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ধ্বংস করা হয়।

সোমবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে কক্সবাজার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে বিচারকের মাদকদ্রব্য ধ্বংস কমিটির মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

মাদকদ্রব্য ধ্বংস কমিটির চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইরফানুল হক চৌধুরীর উপস্থিতিতে কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস.এম. গিয়াস উদ্দিন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে জেলার বিভিন্ন থানায় মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার ও জব্দ করা মাদকদ্রব্য মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালতের অনুমোদনক্রমে ধ্বংস করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, দেশীয় চোলাই মদ, বিদেশি বিয়ার ও ফেনসিডিল ধ্বংস করা হয়।

ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ২৩ লাখ ২০ হাজার ৩৭৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪৭৯ লিটার ৫০০ মিলিলিটার দেশীয় চোলাই মদ, ১ হাজার ৬৯১ ক্যান বিদেশি বিয়ার এবং ৯২ বোতল ফেনসিডিল। এসব মাদকদ্রব্যের আনুমানিক জব্দমূল্য ৭৯ কোটি ৯০ লাখ ৫০ হাজার ১০০ টাকা।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলার বিভিন্ন মাদক মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর মামলার আলামত হিসেবে সংরক্ষিত মাদকদ্রব্য আদালতের বিবিধ মিস মামলার মাধ্যমে ধ্বংসের অনুমোদন নেওয়া হয়। পরে বিচারকের মাদকদ্রব্য ধ্বংস কমিটির তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত বিশেষ প্রক্রিয়ায় এসব মাদক ধ্বংস করা হয়।

আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (নাজির) এম.এ.ই মোহাম্মদ শাহজাহান নূরী বলেন, প্রতি মাসেই বিচারকের মাদকদ্রব্য ধ্বংস কমিটির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়। এসব কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়। প্রচারণার অভাবে সাধারণ মানুষের অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন না। এখন মাদক ধ্বংসের কার্যক্রম সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করা হচ্ছে, যাতে মানুষ আদালতের কার্যক্রম সরাসরি দেখতে পারেন এবং মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন হন।

তিনি আরও বলেন, বিচারকের মাদকদ্রব্য ধ্বংস কমিটির উপস্থিতি ও নির্ধারিত আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা আইনসম্মত নয়। আদালতের অনুমোদন ও কমিটির তত্ত্বাবধানেই জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, মাদক মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ হওয়ায় একদিকে মামলাগুলো নিষ্পত্তি হচ্ছে, অন্যদিকে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যও নিয়মিত ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে। বিচারকের মাদকদ্রব্য ধ্বংস কমিটির এ কার্যক্রম নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

তিনি আরও বলেন, মাদক ধ্বংসের এসব কার্যক্রম ব্যাপকভাবে প্রচার করা হলে যুবসমাজের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা আরও বাড়বে। আদালতের প্রকাশ্য মাদক ধ্বংস কার্যক্রম সমাজে মাদকের বিরুদ্ধে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংসের মাধ্যমে একদিকে মামলার আলামত নিষ্পত্তি হচ্ছে, অন্যদিকে জনসাধারণের সামনে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে সামাজিক সচেতনতা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

দৈনিক বাংলাদেশ

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গণে ৮০ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image
কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গণে প্রায় ৮০ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম শেষে বিভিন্ন মামলায় জব্দ করা এসব মাদক আদালতের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ধ্বংস করা হয়।

সোমবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে কক্সবাজার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে বিচারকের মাদকদ্রব্য ধ্বংস কমিটির মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

মাদকদ্রব্য ধ্বংস কমিটির চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইরফানুল হক চৌধুরীর উপস্থিতিতে কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস.এম. গিয়াস উদ্দিন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে জেলার বিভিন্ন থানায় মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার ও জব্দ করা মাদকদ্রব্য মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালতের অনুমোদনক্রমে ধ্বংস করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, দেশীয় চোলাই মদ, বিদেশি বিয়ার ও ফেনসিডিল ধ্বংস করা হয়।

ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ২৩ লাখ ২০ হাজার ৩৭৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪৭৯ লিটার ৫০০ মিলিলিটার দেশীয় চোলাই মদ, ১ হাজার ৬৯১ ক্যান বিদেশি বিয়ার এবং ৯২ বোতল ফেনসিডিল। এসব মাদকদ্রব্যের আনুমানিক জব্দমূল্য ৭৯ কোটি ৯০ লাখ ৫০ হাজার ১০০ টাকা।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলার বিভিন্ন মাদক মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর মামলার আলামত হিসেবে সংরক্ষিত মাদকদ্রব্য আদালতের বিবিধ মিস মামলার মাধ্যমে ধ্বংসের অনুমোদন নেওয়া হয়। পরে বিচারকের মাদকদ্রব্য ধ্বংস কমিটির তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত বিশেষ প্রক্রিয়ায় এসব মাদক ধ্বংস করা হয়।

আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (নাজির) এম.এ.ই মোহাম্মদ শাহজাহান নূরী বলেন, প্রতি মাসেই বিচারকের মাদকদ্রব্য ধ্বংস কমিটির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়। এসব কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়। প্রচারণার অভাবে সাধারণ মানুষের অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন না। এখন মাদক ধ্বংসের কার্যক্রম সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করা হচ্ছে, যাতে মানুষ আদালতের কার্যক্রম সরাসরি দেখতে পারেন এবং মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন হন।

তিনি আরও বলেন, বিচারকের মাদকদ্রব্য ধ্বংস কমিটির উপস্থিতি ও নির্ধারিত আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা আইনসম্মত নয়। আদালতের অনুমোদন ও কমিটির তত্ত্বাবধানেই জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, মাদক মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ হওয়ায় একদিকে মামলাগুলো নিষ্পত্তি হচ্ছে, অন্যদিকে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যও নিয়মিত ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে। বিচারকের মাদকদ্রব্য ধ্বংস কমিটির এ কার্যক্রম নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

তিনি আরও বলেন, মাদক ধ্বংসের এসব কার্যক্রম ব্যাপকভাবে প্রচার করা হলে যুবসমাজের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা আরও বাড়বে। আদালতের প্রকাশ্য মাদক ধ্বংস কার্যক্রম সমাজে মাদকের বিরুদ্ধে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংসের মাধ্যমে একদিকে মামলার আলামত নিষ্পত্তি হচ্ছে, অন্যদিকে জনসাধারণের সামনে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে সামাজিক সচেতনতা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

দৈনিক বাংলাদেশ


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বাংলাদেশ